স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, প্ল্যাটফর্ম চালু ও আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ; কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশনে স্থায়ী স্টেশন মাস্টার নিয়োগ, স্টেশন সংস্কার, ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু এবং আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতির দাবিতে রেললাইন অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। এতে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি আন্তনগর ও ঢাকাগামী ট্রেন আটকা পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলার পর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের আনসারবাড়িয়া রেলস্টেশন চত্বরে এ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। অবরোধের কারণে রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আনসারবাড়িয়া স্টেশনে আটকা পড়ে। পাশাপাশি দর্শনা ও কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনেও আপ ও ডাউন অভিমুখী বেশ কয়েকটি আন্তনগর ও ঢাকাগামী ট্রেন আটকে যায়।
অবরোধকারীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন আনসারবাড়িয়া। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি না থাকায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্টেশনটি আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ইউনিয়ন ও এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরপাল্লায় পণ্য পরিবহনের জন্য স্টেশনটি ব্যবহার করেন।
তাঁরা আরও বলেন, বর্তমানে স্টেশনে যে ট্রেনটি যাত্রাবিরতি দেয়, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। সেখানে কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় নিচু স্থান থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। এতে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সমস্যা সমাধানে ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো এবং সেখানে প্রয়োজনীয় প্ল্যাটফর্ম চালু করা জরুরি।
অবরোধকারীরা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ সময় জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম মোক্তার, সাংবাদিক রাশেদুজ্জামান রাসেদসহ আন্দোলনরত নেতারা বক্তব্য দেন।
পরে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ চলার পর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।









