কুড়িগ্রামের উলিপুরে ১৮ শতাংশ জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুবিচার ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু সাঈদ (জনী)।
গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের অনুলিপি রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির কার্যালয়েও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে আবু সাঈদ উল্লেখ করেন, তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম (রাজা) এবং বজরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফয়েজ আহমেদ (ফয়জার) যোগসাজশে তাঁর ক্রয় করা ১৮ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছেন।
অভিযোগে জমিটির অবস্থান উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ী/বাবুরহাট বাজার এলাকায় উল্লেখ করা হয়েছে। জমিটির খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০৩৮ এবং দাগ নম্বর ৯৪৭ বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
আবু সাঈদের অভিযোগ, জমির মালিকানা ও দখল ফিরে পেতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ছাড়া অভিযুক্তরা প্রায়ই তাঁর বাড়ির আশপাশে এসে গালিগালাজ করেন, মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আবু সাঈদ আরও দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয়ভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তিনি বর্তমানে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ পরিস্থিতিতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর আবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগটি বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নজরে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।








