আলমডাঙ্গার বাইপাসে মাঝখানে ১০০ ফুট কাঁচা, কবে শেষ হবে কাজ?

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর শহরের যানজট কমাতে পুরাতন সাদা ব্রিজ থেকে হাউসপুর ব্রিজ পর্যন্ত জিকে সেচ প্রকল্পের পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বিকল্প বাইপাস সড়ক। সড়কটির অধিকাংশ অংশ পাকা হলেও মাঝখানে প্রায় ১০০ ফুট অংশ এখনো কাঁচা ও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এতে পুরো সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাইপাস সড়কের অধিকাংশ অংশ পাকা করা হয়েছে। তবে মাঝখানের প্রায় ১০০ ফুট অংশে পাকা সড়কের ধারাবাহিকতা নেই। ওই অংশে কাঁচা, ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বৃষ্টির সময় কাদা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একটি বাইপাস সড়কের প্রায় পুরো অংশ পাকা হওয়ার পরও মাঝখানে মাত্র ১০০ ফুট অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় সড়কটির কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। তাদের প্রশ্ন—এই অংশটি কেন নির্মাণ করা হয়নি, কবে কাজ শুরু হবে এবং কীভাবে তা সম্পন্ন করা হবে?

কেন অসম্পূর্ণ ১০০ ফুট? স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পুরাতন সাদা ব্রিজ থেকে হাউসপুর ব্রিজ পর্যন্ত পরিকল্পিত বাইপাস সড়কের মাঝখানে প্রায় ১০০ ফুট অংশ কেন বাদ পড়ল। এই অংশটি মূল প্রকল্পের আওতাভুক্ত ছিল কি না, নাকি জমি অধিগ্রহণ, মালিকানা জটিলতা, অর্থায়ন, নকশা পরিবর্তন, অনুমোদন, টেন্ডার কিংবা ঠিকাদারি জটিলতার কারণে কাজ আটকে আছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের দাবি, অংশটি যদি মূল প্রকল্পের আওতায় থেকে থাকে, তাহলে কাজ বন্ধ থাকার কারণ জনসাধারণকে জানানো উচিত। আর যদি এটি মূল প্রকল্পের আওতায় না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কোন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হবে, সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কবে শুরু হবে কাজ?

অসম্পূর্ণ অংশের কাজ কবে শুরু হবে—এ প্রশ্নেরও সুনির্দিষ্ট উত্তর চান স্থানীয়রা। তাদের মতে, নতুন করে টেন্ডারের প্রয়োজন হলে টেন্ডার কবে হবে, কার্যাদেশ কবে দেওয়া হবে এবং কাজ কবে শেষ হবে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়সীমা জানানো প্রয়োজন। একইভাবে, আগের প্রকল্পের আওতায় কাজটি করার সুযোগ থাকলে কেন এখনো কাজ শুরু হয়নি, সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। প্রকল্পের তথ্য নিয়ে ধোঁয়াশা আলমডাঙ্গা পৌরসভার ওয়েবসাইটে IUGIP প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, টেন্ডার নোটিশ ও কন্ট্রাক্ট অ্যাওয়ার্ড-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি পৌরসভার বিভিন্ন ADP প্রকল্পের তথ্যও রয়েছে।

তবে পুরাতন সাদা ব্রিজ–হাউসপুর ব্রিজের জিকে সেচ প্রকল্পসংলগ্ন এই বাইপাস সড়কটি ঠিক কোন প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে, অনুমোদিত দৈর্ঘ্য কত, প্রকল্প ব্যয় কত, কোন প্যাকেজে কাজ হয়েছে, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে এবং অসম্পূর্ণ ১০০ ফুট অংশটি মূল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না—এসব তথ্য প্রকাশ্য অনলাইন নথি থেকে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও অসম্পূর্ণ অংশ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তৎকালীন আলমডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র হাসান কাদির গনু জানিয়েছিলেন, শহরের যানজট নিরসনে পুরাতন সাদা ব্রিজ থেকে হাউসপুর ব্রিজ পর্যন্ত জিকে সেচ প্রকল্পের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। সড়কটি নির্মাণ শেষ হলে শহরের যানজট কিছুটা কমবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন। দুই বছর পরও সড়কের মাঝখানে প্রায় ১০০ ফুট অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে আর কত সময় লাগবে? স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের দাবি, বাইপাস সড়কটি পুরোপুরি চালু করা গেলে পৌর শহরের অভ্যন্তরে যানবাহনের চাপ কমতে পারে। কিন্তু মাঝখানের অসম্পূর্ণ অংশটি সড়কটির স্বাভাবিক ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তাদের ভাষ্য, রাস্তার প্রায় সবটুকু পাকা হওয়ার পর মাঝখানে ১০০ ফুট কাঁচা থাকার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। অর্থের প্রয়োজন হলে অর্থের ব্যবস্থা, টেন্ডারের প্রয়োজন হলে টেন্ডার এবং জমি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হচ্ছে— প্রথমত, প্রায় ১০০ ফুট রাস্তা এখনো কেন নির্মাণ করা হয়নি? দ্বিতীয়ত, এই অংশের কাজ কবে শুরু হবে এবং কবে নাগাদ শেষ হবে? তৃতীয়ত, কাজটি আগের প্রকল্পের মাধ্যমে হবে, নাকি নতুন প্রকল্প ও নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া গেলে বাইপাস সড়কের অসম্পূর্ণ অংশ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা অনেকটাই দূর হবে। বাইপাস সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ কেন এখনো নির্মাণ হয়নি, সে বিষয়ে আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রকল্পের অনুমোদন, মোট ব্যয়, সড়কের দৈর্ঘ্য, টেন্ডার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, কাজের পরিমাণ এবং অসম্পূর্ণ অংশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি। শহরের যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে নির্মিত বাইপাস সড়কটি পুরোপুরি কার্যকর না হলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে স্থানীয় মানুষ। তাই অসম্পূর্ণ ১০০ ফুট অংশের কারণ, কাজ শুরুর সময় এবং শেষ করার সম্ভাব্য সময়সীমা দ্রুত জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এখন আলমডাঙ্গাবাসীর অপেক্ষা—বাইপাস সড়কের মাঝখানের ওই ১০০ ফুট রাস্তা কবে পুরোপুরি পাকা হবে?

Share this news as a Photo Card

সর্বশেষ খবর

আলমডাঙ্গার বাইপাসে মাঝখানে ১০০ ফুট কাঁচা, কবে শেষ হবে কাজ?

24 August 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
sftv-bd3
SFtvNewsBD
www.sftvbd.com