আলমডাঙ্গায় ফল মেলা পরিদর্শন ও কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম বিতরণ করলেন এমপি রাসেল
ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ফল মেলা-২০২৬, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন প্রদর্শনী। একইসঙ্গে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম ও বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি ফল মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে প্রদর্শিত ফল, কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। পরে কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আলমডাঙ্গা অঞ্চল ফল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এ অঞ্চলের মাটি ও পানির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোন এলাকায় কোন ফলের চাষ সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণ করে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফলের বাগান গড়ে উঠেছে, আলমডাঙ্গাতেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে জীবননগর উপজেলার মতো আলমডাঙ্গাতেও বিভিন্ন জাতের ফলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। এসব উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিজের জমি আবাদ করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে অনাবাদি জমিও চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে, সে বিষয়ে কৃষকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি রাসেল বলেন, “কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই হবে না, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সঠিক বিপণনের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করতে পারলেই কৃষক আরও বেশি লাভবান হবেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনূর আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, জেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা।
এ সময় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা উদয় রহমান, কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় কৃষক, খামারি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি উপকরণ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।








