ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ এবং সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম ফারুককে পুনর্বহালের দাবিতে ভোলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির সচেতন গ্রাহকরা। একইসঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনায় রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত প্রভাব বন্ধ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান শাখার সামনে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মোঃ আমির হোসেন, মাওলানা আতাউর রহমান কামাল, আরিফুর রহমান, মাওলানা জাকির হোসেন, আব্দুল বারী, বিবি হাজেরা, উম্মে হাসান এবং আয়েশা খানমসহ আরও অনেকে। বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ব্যাংকটি কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল ব্যাংকটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অযাচিত হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। এর ফলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বক্তাদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমকে অপসারণ করে সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম ফারুককে পুনর্বহাল করা হলে গ্রাহকদের আস্থা পুনরায় সুদৃঢ় হবে এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। গ্রাহক প্রতিনিধি মোঃ মেহেদী হাসান সুমন বলেন, “ইসলামী ব্যাংক শুধু একটি ব্যাংক নয়, এটি কোটি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে গ্রাহকদের স্বার্থ ও মতামত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।” অন্যদিকে গ্রাহক ইমরান হোসেন বলেন, “ব্যাংকের সুনাম ও স্বকীয়তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রাহকরা মেনে নেবে না।” বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রবাসী আয় এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ ও গ্রাহকদের আস্থা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।








