গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটালেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণরা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যখন খাদ্যের জন্য হাহাকার, ঠিক তখনই মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মালয়েশিয়াস্থ প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) পবিত্র রমজানের শেষ দশকে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত বসতিগুলোতে গরম খাবার বিতরণ করেছে ‘বাংলাদেশি ইয়ুথ অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া’ (বিয়াম) এবং ‘প্রজেক্ট ১০ টাকা’।চলমান সংঘাতের ফলে গাজায় সৃষ্ট তীব্র খাদ্য সংকট মোকাবিলায় এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিয়াম-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মুশফিকুর রহমান জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে গাজার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাদের নৈতিক দায়িত্ব। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশে যৌথভাবে তহবিল সংগ্রহের পর ‘প্রজেক্ট ১০ টাকা’-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে খাবার তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এর ফলে দূর প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ সরাসরি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের হাতে তৈরি খাবার হিসেবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে ‘প্রজেক্ট ১০ টাকা’-এর প্রধান কর্মকর্তা মাগফিরাত জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বাজারে খাদ্যপণ্যের চরম অভাব ও উচ্চমূল্যের কারণে সীমিত বাজেটে এই প্রকল্প সম্পন্ন করা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।গাজার যুদ্ধকবলিত এলাকায় অস্থায়ী উনুনে রান্না করা এই খাবারগুলো স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ধ্বংসস্তূপের মাঝে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাতে যখন খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের মলিন মুখে ফুটে ওঠে এক অমলিন হাসি।সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আয়োজকরা সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করেছেন। উদ্যোক্তারা জানান, গাজার মতো সংকটপূর্ণ অঞ্চলে এই ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগও অসহায় মানুষদের মনে বাঁচার আশা ও সাহস জোগাচ্ছে। বাংলাদেশি তরুণদের এই সময়োপযোগী কার্যক্রম ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।ভবিষ্যতেও ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পাশে থাকার এবং এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিয়াম-এর সদস্যরা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031