ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার ফোনালাপে ইলন মাস্কের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিরল ও অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপটি ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে প্রথম সরাসরি আলাপচারিতা।নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের যুদ্ধকালীন সংলাপে একজন সাধারণ নাগরিকের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও মাস্ক সেই কলে কোনো কথা বলেছিলেন কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে তার উপস্থিতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়:
- সম্পর্কের পুনরুজ্জীবন: গত বছর মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ (কর্মী ছাঁটাই ও প্রশাসনিক সংস্কার) থেকে বিদায় নেওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের তিক্ততা তৈরি হয়েছিল। এই ফোনালাপে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।
- প্রযুক্তি ও যুদ্ধের সংযোগ: আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন প্রযুক্তি এবং স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। ইরান যুদ্ধে মাস্কের প্রযুক্তিগত সহায়তা বা কৌশলগত পরামর্শ ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- জ্বালানি ও মহাকাশ কূটনীতি: ইরান সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় টেসলার কর্ণধার হিসেবে মাস্কের ভূমিকা এবং ভারতের বিশাল বাজারের স্বার্থ এক সুতোয় গাঁথা হতে পারে।
আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হরমুজ প্রণালীকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ভারতের জন্য এই জলপথটি জীবনরেখার মতো, কারণ দেশটির জ্বালানি আমদানির বড় একটি অংশ এই পথেই আসে। মোদি উল্লেখ করেন যে, এই প্রণালীর নিরাপত্তা বিশ্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এই আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি পিটিআই-কে জানান, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির চমৎকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে এবং এই আলোচনা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে।”কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ফোনালাপে মাস্ককে রাখা ভারতের জন্য একটি বিশেষ বার্তা হতে পারে। ভারত বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে, যেখানে মাস্কের কোম্পানিগুলোর (যেমন- স্পেসএক্স বা টেসলা) বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান ইস্যুতে ভারতকে নিজেদের পাশে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।










