বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ‘হরমুজ প্রণালী’র নাম বদলে নিজের নামে করার ঘোষণা দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ মার্চ) মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তার এই অদ্ভুত নামকরণে উপস্থিত সুধীমহলে হাসির রোল পড়ে যায়।ভাষণ চলাকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানকে ট্রাম্প প্রণালী—মানে, হরমুজ—অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।” তার মুখে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ শব্দটি শুনেই হলরুমে হাসির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ট্রাম্প কিছুটা কৌতুকের ছলে ক্ষমা চাওয়ার ভান করে বলেন, “ক্ষমা করবেন, আমি খুবই দুঃখিত। কী ভয়ানক একটা ভুল!”তবে পরক্ষণেই নিজের স্বভাবজাত ভঙ্গিতে তিনি গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে বলেন, “ভুয়া খবরগুলো (Fake News) এখন বলবে যে আমি ভুলবশত এটা বলেছি। কিন্তু না, আমার ক্ষেত্রে কোনো ভুল হয় না। যদি হতো, তবে সেটাই হতো বড় খবর।”নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বা ‘স্ট্রেইট অফ আমেরিকা’ রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে তিনি একইভাবে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছিলেন।গত মাসের শেষ দিকে ইরানে ইসরাইল ও আমেরিকার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এমন দেশের জাহাজ চলাচলে তাদের বাধা নেই। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশের জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইরান।তবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ এই পথে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোর হামলা চালানো হবে। রয়টার্সের তথ্যমতে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়টি জাহাজ ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়ালেও এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরানের এই কৌশলগত অবরোধ ভাঙা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার মধ্যেই ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুঙ্কার এবং প্রণালীর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবকে অনেক বিশ্লেষক ‘কূটনৈতিক চপলতা’ বা ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ’ হিসেবে দেখছেন।










