মধ্যপ্রাচ্যে গত চার সপ্তাহ ধরে চলা বিধ্বংসী সংঘাত নিরসনে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি বিস্তারিত শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাবটি তেহরানের নীতি-নির্ধারকদের হাতে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’।কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করা এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরানো। প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো:
- পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে ফেলা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার।
- ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও পরীক্ষা বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো।
- হরমুজ প্রণালী: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটিকে ‘মুক্ত বাণিজ্যিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- প্রক্সি গোষ্ঠী: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন ও সহায়তা বন্ধ করা।
- এই সংকট নিরসনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আসিম মুনির সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, অন্যদিকে পাকিস্তানি কূটনীতিবিদরা ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামাবাদ এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে যে, উভয় পক্ষ রাজি হলে পাকিস্তানের রাজধানীতেই সরাসরি শান্তি আলোচনার আয়োজন করা হবে।
- হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হচ্ছে এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘অত্যন্ত আগ্রহী’। এই আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর পূর্বনির্ধারিত হামলা ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।যদিও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে একটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তারা পর্দার আড়ালে ‘যোগাযোগ’ রাখছে। ইরান জানিয়েছে, যদি প্রস্তাবটি ‘টেকসই’ এবং তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তবে তারা যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী।
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও, ট্রাম্পের ঘোষণার পর তা প্রায় ৯ শতাংশ কমে ১০১ ডলারে নেমে এসেছে।
- বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ১৫ দফা প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থীদের মনোভাব এই চুক্তির চূড়ান্ত সফলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। আগামী ৫ দিনের এই ‘যুদ্ধবিরতি সদৃশ’ বিরতিই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্য কি স্থায়ী শান্তির দিকে যাবে নাকি নতুন কোনো সংঘাতের শুরু হবে।
ভিউ: ৪০










