২৫ মার্চ, ২০২৬: ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন অধ্যায় শেষে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে দায়িত্ব নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস না পেরোতেই সরকারের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভঙ্গুর অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং তীব্রতর হতে থাকা জ্বালানি সংকট। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের উত্তাপে বিশ্ববাজারে জ্বালানির যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর।ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর ধাক্কায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন মনে করেন, আমদানিনির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের প্রধান দুর্বলতা। তিনি বলেন:“বেশি দামে জ্বালানি কিনে সাময়িক সংকট কাটানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরি। নির্ধারিত সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা এবং কয়লা আমদানি নিশ্চিত করতে না পারলে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।”বিগত কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই সরকার। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়িয়ে ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘জুলাই সনদ’ বা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনা। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৬৯ শতাংশের বেশি মানুষের সমর্থনে পাস হওয়া ‘সাংবিধানিক গণভোট’ বা জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা এখন তারেক রহমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানে যে বিশাল আত্মত্যাগ হয়েছে, সেই চেতনা থেকে সরে গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা কঠিন হবে। সব দলের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছিল, তা বজায় রাখাই হবে এই সরকারের সফলতার চাবিকাঠি।”জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার এরই মধ্যে কিছু এলাকায় রেশনিং এবং সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে রমজান ও পরবর্তী কৃষি মৌসুমের আগে বিদ্যুৎ ও সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন সরকার সংকটের মেঘ কাটিয়ে কতটা দ্রুত স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে।










