লালমনিরহাটে দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়ায় এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে মিথ্যা শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের ভয়ে বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাটের তালুক খুটামারা, বটতলা মোড় এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম জানান, তার পিতা মোঃ হযরত আলী গত ৪৫ বছর ধরে ওই এলাকায় অত্যন্ত সুনামের সাথে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অনেক কষ্ট ও অভাব-অনটনের মাঝেও একটি ভাড়া দোকানে তারা দীর্ঘ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে এলাকার কিছু চিহ্নিত প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের দোকান পরিচালনায় বাঁধা দিচ্ছে এবং দোকানটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলামের দাবি, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পাওনা পরিশোধ না করে উল্টো তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা করা হয়। বর্তমানে অভিযুক্ত মোঃ এমকে মাহামুদুল হাসান (মুন), মোঃ মোস্তাফিজুর আলম, মোঃ জোবায়ের ইসলাম, মোঃ জাহিদ হাসান, মোঃ শহীদুল ইসলাম এবং মোঃ মামুনসহ তাদের সহযোগীরা শফিকুল ও তার বৃদ্ধ পিতাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
”আমরা বর্তমানে বাড়িতে তালাবদ্ধ অবস্থায় আছি। ঘর থেকে বের হলেই আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের এভাবে অত্যাচার করলে আমরা ঘরেই আত্মহত্যা করে মরে যাব।“
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো সিদ্ধান্তই মানছে না। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে এই ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুত দোকান পরিচালনা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। আজ সংবাদ সম্মেলনের পর লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের একটি টহল টিম সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য এলাকা প্রদর্শন করেন।










