সংসদ সদস্য হওয়ার মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে তিনি তার উপজেলার জন্য আসা বিভিন্ন বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব তুলে ধরেন।লাইভে তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকার জন্য বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ এসেছে, তা কোথায় কীভাবে ব্যয় হবে, কে বা কোন প্রতিষ্ঠান তা পাবে এবং কোন মানদণ্ডে কাজ দেওয়া হবে—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।এ সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, তার উপজেলায় মোট ৩৯ বক্স খেজুর বরাদ্দ হয়েছে, যা বিভিন্ন মাদরাসায় বিতরণ করা হবে। কোন মাদরাসায় কত বক্স খেজুর দেওয়া হবে, সেই হিসাবও তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।সাধারণত এ ধরনের ছোট বরাদ্দের বিষয়গুলো জনগণের সামনে খুব একটা আসে না। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, বিভিন্ন আইটেম বা বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও তাদের ঘনিষ্ঠদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছায় না। তবে হাসনাত আব্দুল্লাহ লাইভে এসে সেই প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে স্বচ্ছতার একটি ভিন্ন উদাহরণ দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।
লাইভে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার মতো করে ধাপে ধাপে বরাদ্দের তথ্য ব্যাখ্যা করেন। এতে করে সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারেন—কোন খাতে কী পরিমাণ বরাদ্দ এসেছে এবং তা কীভাবে বণ্টন করা হবে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ অন্য সংসদ সদস্যদের জন্যও একটি বার্তা হতে পারে। কারণ একজন সংসদ সদস্য যদি তার এলাকার প্রতিটি বরাদ্দের খোলামেলা হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে অন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকেও জনগণ একই ধরনের স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করতে পারে।উল্লেখ্য, এর আগেও হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, তিনি সংসদে গেলে অন্য অনেক সংসদ সদস্যের “ঘুম হারাম” হয়ে যাবে। অনেকেই তখন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করলেও বর্তমানে তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উদ্যোগকে সেই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অনেকেই।বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জনগণের মধ্যে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।










