নোয়াখালীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির স্মরণে ইফতার মাহফিল শুরুর আগেই নিহত শরীফ ওসমান হাদির ছবি যুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। (৭ মার্চ) শনিবার ১৭ রমজান পবিত্র বদর দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সংগঠন এনসিপির উদ্যেগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে আশেপাশে মুরিচা ও ঝিলিক বাতি জ্বালিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানস্থল।রবিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের ইফতার কার্যক্রম শুরুর আগেই পুলিশ ও নাইটগার্ডের পাহারার মধ্যেও নিহত শরীফ ওসমান হাদির ছবি যুক্ত ব্যানার টি অর্ধেকেরও বেশি অংশ ছিড়ে একেবারে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা করে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা।ইফতার আয়োজকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত শরীফ ওসমান হাদির ছবি যুক্ত ব্যানার টি ছেঁড়া দেখতে পেয়ে মানষিক ভাবে ভেঙে পড়ে। ইফতার পরবর্তী ঘটনাস্থলেই জড়ো হয়ে নিহত শরীফ ওসমান হাদির ছবি যুক্ত ব্যানার টি ছেঁড়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ছবি যুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা টি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ফেইসবুকে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নামে এক ফেইসবুক পোস্টে একজন লিখেন ‘দিন দিন বেড়েই চলেছে নোংরামি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবির স্থলে নিহত ওসমান হাদির ছবি টাঙানোর মতো বড় নোংরামি আর কিছু হতে পারে না। নোয়াখালীর সচেতন নাগরিক সমাজ এটি সরিয়ে দিয়েছে। ভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় নোয়াখালী নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী ও এনসিপি সমর্থক মেহেদী হাসান সিমান্ত নামের একজন পোস্ট করেন, ‘কি এক্টা অবস্থা, এই মানুষটা মরে যাওয়ার পরেও তোদের সহ্য হয় না বুঝি? যাঁরাই এই কাজ করেছিস তোদেরকে এর কড়া জবাব দিতে হবে’।জানা যায়, ২০২৪ ইং সালের ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার অভুত্থানের পরে নোয়াখালী জেলা প্রসাশক কার্যালয়ের সামনে পরিচিত ‘বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বরে’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ছবি নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চ পরে নিহত শরীফ ওসমান হাদির ছবি টাঙ্গিয়ে দিয়েছে ছাত্র শিবিরের লোকজন।তথ্য সুত্রে জানাযায়, মুজিব বর্ষ ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ৫ হাজার ৮৫০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে একটি “বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও মুজিব চত্বর” নির্মাণ করা হয়েছিল। নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত “বঙ্গবন্ধু ম্যূরাল” এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সাবেক জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস এর সভাপতিত্বে “বঙ্গবন্ধু ম্যূরাল ও মুজিব চত্বর” এর শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য নোয়াখালী ৪ সংসদীয় আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী। তবে ২০২৪ ইং সালের ৫ আগষ্টে ছাত্র-জনতার অভুত্থানে বঙ্গবন্ধু ম্যূরাল ও মুজিব চত্বরটি ভাঙচুর করে নিশ্চিহ্নের চেষ্টা করা হয়েছে।










