পাইকগাছায় সেই মৎস্য ঘের নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে; বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পার্শেমারি মৌজায় একটি মৎস্য লীজ ঘেরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি ভাগাভাগি ও ঘেরের বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। বিষয়টি একপর্যায়ে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।অভিযোগকারী বিল্লাল মোল্লা ও আবুল কালাম আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গভীর রাতে রেজাউল করিম তার লোকজন নিয়ে সোলাদানা পার্শেমারি মৌজার ওই ঘেরে প্রবেশ করে তাদের সদ্য নির্মিত বাঁধ কেটে দেয় ও ঘেরের বাসা ভাংচুর করা হয়েছে। এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি স্বাদন সহ রেজাউল করিম চরম অন্যায় করছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের জমিতে বাঁধ বন্দী দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে মৎস্য ঘের করছি। তাহলে রেজাউল আমাদের নামে থানায় অভিযোগ করে হয়রানি কেনো করবে। এ ঘটনায় তারা উভয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল করিম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত। তিনি দাবি করেন, তার নিজস্ব ঘেরের মধ্যে বিল্লাল ও আজাদের জমি রয়েছে-এটি সত্য। কিন্তু তারা থানার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তার মতে, বিষয়টি আগে থানায় বসে মাপজোকের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। এ বিষয়ে তিনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।জানা যায়, পাইকগাছা বাজারের পোনা ও ঘের ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম প্রায় ১০ বছর ধরে পার্শেমারি মৌজায় হারীকৃত প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে মৎস্য লীজ ঘের পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, ওই ঘেরের মধ্যে ভিলেজ পাইকগাছার মৃত নাসির সরদারের ছেলে আবুল কালাম আজাদ এবং একই গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেন মোল্লার জমিও রয়েছে। তাদের কাছ থেকে জমি হারী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ঘের পরিচালনা করে আসছিলেন। যদিও বিল্লাল মোল্লা ও আজাদের কাছ থেকে হারীকৃত জমির মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়।অন্যদিকে আবুল কালাম আজাদ ও বিল্লাল মোল্লা বলেন, ২০২৫ সালে রেজাউল করিমের সঙ্গে আমাদের সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই আমরা নিজেদের জমি এবং হারীকৃত জমি নিয়ে পৃথকভাবে নতুন করে মৎস্য লীজ ঘের পরিচালনার জন্য বাঁধ নির্মাণ করছি।এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আয়ূব আলী জানান, বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এদিক এ ঘটনায় গত ইং- ২ মার্চ সোমবার বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031