ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় জনস্বার্থে পরিচালিত এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট অভিযানে ড্রাগ লাইসেন্স ও ঔষধ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গোদাগাড়ী বাজার, বড়বাড়ি বাজার ও চৌরঙ্গী বাজারে একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযানটি পরিচালনা করেন পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁর সঙ্গে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক রিফাত হোসেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারগুলোতে কিছু ফার্মেসিতে ড্রাগ লাইসেন্স সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রিতে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠছিল। সেই প্রেক্ষিতে হঠাৎ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে দেখা যায়, কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে হালনাগাদ নেই এবং ঔষধ বিক্রির ক্ষেত্রে বিধি-বিধান পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। এসব অপরাধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২০–এর ৪০(গ) ধারায় তিনটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।বড়বাড়ি বাজারের ‘সেবা ফার্মেসী’-এর স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান (৪৩)-কে ৪,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। গোদাগাড়ী বাজারের ‘শান্ত ফার্মেসী’-এর স্বত্বাধিকারী শান্ত নাথ রায় (৪৮)-কে ২,০০০ টাকা এবং চৌরঙ্গী বাজারের ‘মুয়াজ ফার্মেসী’-এর স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম (২২)-কে ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। মোট ৮,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে লাইসেন্স সংক্রান্ত ত্রুটি ও কিছু নথিপত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ না করে কিছু ঔষধ বিক্রির অভিযোগও উঠে আসে। কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন এবং ভবিষ্যতে আইন অমান্য করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।এ ধরনের অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বাজারের কয়েকজন ক্রেতা জানান, অনেক সময় গ্রামের মানুষ প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঔষধ কিনে থাকেন। এতে ভুল চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত তদারকি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। অন্যদিকে কিছু ফার্মেসি মালিকের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে লাইসেন্স নবায়নে বিলম্ব হয়। তারা দ্রুত প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে ফার্মেসিগুলো অনেক সময় চিকিৎসকের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে আইন মেনে ঔষধ বিক্রি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ঔষধ সরবরাহ, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি বা সঠিক সংরক্ষণ না থাকলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি নয়; বরং আইনানুগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে লাইসেন্স, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও বিক্রির নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করা হবে।পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পরিচালিত এই অভিযানের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপদ ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।










