হরিণাকুণ্ডুতে ১০০–১২০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি
রমজানের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ। তবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ফলে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, আর ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিণাকুণ্ডুর বাজারগুলোতে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করায় ক্রেতারা ঠকছেন। সাধারণত কাঁঠাল, কলা ও তরমুজের মতো ফল, যেগুলোতে ওজনের বড় অংশ অপচয় হয়, সেগুলো পিস হিসেবে বিক্রি করা হয়। কিন্তু কেজিতে বিক্রির কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। তুলা গ্রামের ফল ক্রেতা সবুজ আলী বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা আগের যুগে ফিরে গেছি। ১২০ টাকা কেজিতে তরমুজ কেনা আমার সাধ্যের বাইরে, তাই কিনতে পারছি না।” পাখি ভ্যানচালক ছের আলী জানান, তরমুজের দাম অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। রমজানের বাজার করতে আসা ফলসী গ্রামের রিক্তা খাতুন জানান, ১০০ টাকা কেজিতে একটি ছোট তরমুজ কিনেছেন। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমাজ সংস্কারক ৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনে ৪০০ টাকা নেওয়ার অনুরোধ করেন। শ্রামপুর গ্রামের গোলাপী খাতুন বলেন, দাম বেশি হওয়ায় ছোট একটি তরমুজ কিনেছেন এবং ওজনে বিক্রি করায় তিনি ঠকেছেন বলে মনে করছেন। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান মাস্টার কেজিতে তরমুজ বিক্রির নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী হরিণাকুণ্ডু বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী শীলন আলী কেজি দরে বিক্রির সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজার থেকে প্রতি কেজি ৭৫ টাকা দরে ৪৩১ কেজি তরমুজ কিনে এনেছেন। তাই বাধ্য হয়ে কেজিতে বিক্রি করছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ দিদারুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বাজার নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। কেজিতে তরমুজ বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নজরদারির মাধ্যমে বাজারে স্বাভাবিক ও সহনীয় মূল্য নিশ্চিত হবে এবং ক্রেতারা স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031