চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত ও অনৈতিক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী আলমডাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা অফিসে বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার ঝাউদিয়া আস্তানগর গ্রামের বাসিন্দা মোছাঃ প্রীতি সিনহা (২৩) হাটবোলিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুর রহিম ওরফে ‘রহিম মাস্টার’-এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রীতি সিনহার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও প্রেমঘটিত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্কের একপর্যায়ে তিনি চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন তিনি। শিক্ষক পরিচয়ের প্রতি আস্থা রেখে এবং ভবিষ্যতের আশায় ভুক্তভোগী প্রথম ধাপে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকরির কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
পরবর্তীতে চাকরির বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং একপর্যায়ে চাকরি দেওয়া ও টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন প্রীতি সিনহা। অভিযোগে আরও বলা হয়, চাকরি দেওয়ার অজুহাতে বিভিন্ন সময় তাকে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়, যা একজন শিক্ষকের পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী। ভুক্তভোগী প্রীতি সিনহা বলেন, প্রথমে আমার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি আমাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখান। তিনি নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সম্ভব। পরে তিনি জানান, চাকরির জন্য মোট ৫ লক্ষ টাকা লাগবে। প্রথম পর্যায়ে ৩ লক্ষ টাকা দিলে চাকরি নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর বাকি ২ লক্ষ টাকা দিতে হবে।
তার কথায় বিশ্বাস করে আমি প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করি। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি আমাকে ঘুরাতে শুরু করেন এবং চাকরির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাননি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। একপর্যায়ে তিনি আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরির কথা বলেন। আমি মূলত টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় যোগাযোগ বজায় রাখি।
এরপর তিনি আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতে বলেন, এমনকি একবার আবাসিক হোটেলেও নিয়ে যান। সেখান থেকে আমি কোনো রকমে নিজের ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করে ফিরে আসি। পরে টাকার জন্য চাপ দিলে তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এখন তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। একজন শিক্ষক হয়ে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।
ঘটনার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে—আসছে তৃতীয় পর্ব…

https://youtu.be/nL_2W20_BWM

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28