ওসি প্রদীপের ‘আক্রোশের বলি’ সাংবাদিক ফরিদুল: ৬ বছরেও প্রত্যাহার হয়নি ৬ মামলা, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি প্রদীপ কুমার দাস-এর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে আজও ছয়টি ‘সাজানো’ মামলার বোঝা বইছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। দীর্ঘ ৬ বছরেও মামলাগুলো প্রত্যাহার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে।দৈনিক কক্সবাজার বাণী-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল মোস্তফা খান অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে “টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ” শিরোনামে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি তৎকালীন ওসি প্রদীপ ও কক্সবাজারের সাবেক পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা থেকে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে টেকনাফে এনে কয়েক দিন নির্যাতনের পর অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ছয়টি মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।এসব মামলায় তিনি টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তির পরও হয়নি মামলার নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার। উল্টো চার্জ গঠন হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়ায় ঝুলে আছেন তিনি।প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে, তবুও সুরাহা নেইজানা গেছে, কারামুক্তির পর থেকে ফরিদুল ও তার পরিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি)সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছেন। সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।এদিকে তার দায়ের করা পাল্টা ফৌজদারি মামলাও দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তদন্তাধীন অবস্থায় ঝুলে আছে। হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে।
হাইকোর্টের রুলও ঝুলে আছেফরিদুলের স্ত্রী স্বামীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সিডিএমএস সংশোধন ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুল জারি করলেও ৬ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি সেই রিট।পাসপোর্ট নবায়ন করতেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অজুহাতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান তিনি। এতে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সাংবাদিক।আর্থিক দৈন্যদশা ও নিরাপত্তাহীনতামামলার খরচ চালাতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ফরিদুল মোস্তফা খান। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। তবুও প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় বাড়ছে অসন্তোষ।দাবি কী?ছয়টি ‘সাজানো’ মামলা দ্রুত তদন্ত করে প্রত্যাহারসিডিএমএস রেকর্ড সংশোধনআদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নপাসপোর্ট জটিলতা নিরসনফরিদুল ও তার পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণস্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও পরিবারের দাবি—মেজর সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28