চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নূরনগর কলোনীপাড়ায় দোয়া ও মোনাজাতে কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে মসজিদের ইমামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার নূরনগর কলোনীপাড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম মো. ইখলাস রহমান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে তিনি কোনো ব্যক্তিবিশেষের নাম উল্লেখ না করে দেশের ভবিষ্যৎ ও সরকারের জন্য দোয়া করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. মঞ্জুর রহমান ডাসা ক্ষুব্ধ হয়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন।একপর্যায়ে তিনি ইমামকে গালাগালি করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মসজিদের মুসল্লিদের সঙ্গে মঞ্জুর রহমান ডাসার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হন। আহতদের মধ্যে মঞ্জুর রহমান ডাসা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াতের অফিস এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের কয়েকটি দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টায় নূরনগর কলোনীপাড়া ক্লাব মোড়ে এলাকাবাসীর আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা মিথ্যা দোষারোপ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।স্থানীয় বাসিন্দা এইচ. এম. মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন,মঞ্জুর রহমান ডাসা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। আজকের ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না, অথচ আমারসহ এলাকাবাসীর ওপর মিথ্যা অভিযোগ চাপানো হচ্ছে। পরে আমাদের দোকান ও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চাই এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই।মসজিদের সেক্রেটারি মজনু বাবু ইমামের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দোয়া মাহফিলে কারও নাম উল্লেখ না করায় এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক।মসজিদের ইমাম মো. ইখলাস রহমান বলেন, আমি কোরআন-হাদিসের আলোকে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। সে কারণেই আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। দোয়ায় আমি কোনো নাম উল্লেখ করিনি, শুধু দেশের ভবিষ্যৎ ও সরকারের জন্য দোয়া করেছি। দোয়া শেষে মঞ্জুর রহমান ডাসা ও তার সঙ্গীরা আমার ওপর হামলা চালায়।বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। এই এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে।এ সময় আব্দুর রহিম, শাহ আলমসহ শত শত নারী-পুরুষ বিক্ষোভে অংশ নেন এবং মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে










