আলমডাঙ্গায় কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর ও মাটি কাটার দায়ে ৪ জনের দণ্ড, জরিমানা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে চারজনকে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও দুইজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলার সাতকপাট সংলগ্ন বেলগাছির মাঠে এবং এর আগের দিন বুধবার রাতে ডাউকি ইউনিয়নের যমুনার পাড় এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম শাহনেয়াজ মেহেদীর নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি অসাধু মাটি ব্যবসায়ী চক্র কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল কেটে দিন ও রাতের আঁধারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। এতে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতকপাট এলাকার বেলগাছির মাঠে পরিচালিত অভিযানে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে মাটি ইটভাটায় বিক্রির দায়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫(১) ও ৫(২) ধারায় রোয়াকুলি গ্রামের ইসলাম হোসেনের ছেলে রাসেদকে ১ লাখ টাকা, টেংরামারী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সঠিক আলীকে ১ লাখ টাকা এবং বন্ডবিল গ্রামের মৃত গোলাম রহমানের ছেলে হাসান আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।এদের মধ্যে রাসেদ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান। অপর দুইজনকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।অন্যদিকে, বুধবার রাতে ডাউকি ইউনিয়নের যমুনার পাড় এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ডাউকি গ্রামের মোশারেফ হোসেনের ছেলে তপনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে একই আইনের ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করে থানা পুলিশের একটি দল।প্রশাসন জানায়, কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ খবর