১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অনিবার্য, কোনো অঘটনের দায় রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে:

চুয়াডাঙ্গা সদর প্রতিনিধি:আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোট কোনোভাবেই পেছানো হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটকে কেন্দ্র করে যদি কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায় রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোটের প্রচার কার্যক্রম জোরদার ও ভোটারদের সচেতন করতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, “গণভোট জনগণের মৌলিক অধিকার এবং নাগরিক দায়িত্ব। এটি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, সরকার ও রাষ্ট্র এ গণভোটের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থানে নেই; বরং নৈতিকভাবে রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, সুশাসন ও একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের পক্ষে, তাদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—আগামী দিনগুলো আগের মতো চলতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই কাঠামো দীর্ঘদিন বহাল থাকলে আবারও স্বৈরাচার জন্ম নেবে। এ কারণেই ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।গণভোটকে শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, “এই গণভোটের পক্ষে দাঁড়ানো মানে শহীদ ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি সম্মান জানানো, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।” তিনি যোগ করেন, “‘হ্যাঁ’ ভোট মানে সংস্কারের পক্ষে দাঁড়ানো, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করা এবং নতুন বাংলাদেশের দ্বার উন্মোচন করা।”সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে জেলার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, গণভোটকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব সরকারি দপ্তরের সমন্বিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার মসজিদ কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে ধর্মীয় বয়ানে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, এবারের গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।তিনি বলেন, গণভোটের মূল বার্তা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি। সবাই মিলে সচেতনতা তৈরি করতে পারলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণভোট অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হবে।মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার সাহা, এবি পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।এছাড়া সভায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031