জনতার সেতু; মামুনুর রশিদ মামুন এবং বাংলাদেশকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন

ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ–রাণীশংকৈল) আজ আর শুধু একটি আসন নয়—এটি একটি রায় দেওয়ার ময়দান। এই রায় কোনো ব্যক্তি নিয়ে নয়, এই রায় একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। প্রশ্নটা সোজা: এই দেশ কি চলবে উত্তরাধিকার দিয়ে, না চলবে নাগরিকের রায়ে? পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে দুই-তিনটি পরিবারের চারপাশে। দল বদলেছে, সরকার বদলেছে, মুখ বদলেছে—কিন্তু মানুষের ভাগ্য বদলায়নি। কারণ রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে জনগণের ইচ্ছায় নয়, কয়েকটি বংশের সুবিধায়। আজ সেই দেয়ালে আঘাত করার সময় এসেছে। এই আঘাতের নাম মামুনুর রশিদ মামুন। মামুন কোনো এসি-রুমে বানানো নেতা নন। তিনি রাজপথের সন্তান। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে বয়সসীমা ৩৫, নিরাপদ সড়ক, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই,প্রতিটি সংগ্রামে তিনি সামনে ছিলেন, আঘাত নিয়েছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি। তিনি জানেন, এই রাষ্ট্র আপনাআপনি ঠিক হয় না, একে চাপ দিয়ে ঠিক করতে হয়। তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করতে আসেননি, তিনি কাঠামোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছেন।
আজ তরুণদের বলা হয় রাজনীতি খারাপ। কেন খারাপ? কারণ এই ব্যবস্থা চায় না প্রশ্ন করা নাগরিক। মামুন বলেন—“শুধু ভোটার হয়ে থাকলে চলবে না, ক্ষমতার কাঠামো বদলাতে হবে।” এই কথাটাই আজকের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং সবচেয়ে জরুরি। পীরগঞ্জ–রাণীশংকৈলকে ইচ্ছা করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। কারণ গরিব, বেকার, নির্ভরশীল মানুষকে শাসন করা সহজ। এই চক্র ভাঙার জন্য মামুন দিচ্ছেন স্পষ্ট ঘোষণা—তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ৩০ হাজার চাকরি। এটা কোনো মিষ্টি প্রতিশ্রুতি নয়—এটা হলো ক্ষমতা ফেরত নেওয়ার অর্থনীতি। তিনি বলেন—এলাকা আর ভিক্ষার রাজনীতিতে চলবে না। চলবে কাজের রাজনীতিতে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে তাঁর কথা আরও পরিষ্কার। তিনি শুধু ভবন বানাতে চান না, তিনি মানুষ গড়তে চান। মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—মানে আপনার ছেলে-মেয়েকে আর “জেলায়, বিভাগে” ছুটতে হবে না। মানে আপনার সন্তান এই মাটিতেই ভবিষ্যৎ বানাবে। ধর্মের নামে এতদিন রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা আসেনি। মামুন বলেন—“আমার এলাকায় পূজামণ্ডপে পুলিশ নয়, মানুষের পাহারা চলবে।” এটা শুধু কথা নয়, এটা ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঘোষণা। এই দেশে সংখ্যালঘুদের বারবার ভোটের তুরুপের তাস বানানো হয়েছে। এবার সেই খেলা বন্ধ করার সময় এসেছে। পানির কথা বলুন। এই অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানির সম্পদ এতদিন অবহেলায় পড়ে ছিল। মামুন বলছেন—এই পানি হবে শিল্প, এই শিল্প দেবে চাকরি, এই চাকরি দেবে সম্মান। এটাই উন্নয়নের নতুন সংজ্ঞা। অনেকে বলে—ওকে সমালোচনা করা যায়। মামুন বলেন—করুন। কারণ যে রাজনীতি প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না, সে রাজনীতি স্বৈরতন্ত্রে যায়। তিনি আপস করেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে শর্টকাট পথে ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ তিনি জানেন—ভুল পথে গিয়ে ভালো গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।
এই নির্বাচন তাই কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এটা রেফারেন্ডাম—বংশবাদ থাকবে, না নাগরিকের রাষ্ট্র হবে? মামুনুর রশিদ মামুন মানে শুধু একজন প্রার্থী নয়। তিনি মানেন একটা বার্তা: “আর না।”আর না বংশের রাজনীতি।আর না ভিক্ষার উন্নয়ন।আর না ভয় দেখিয়ে শাসন।এবার কাজের রাজনীতিএবার সাহসের রাজনীতি।এবার জনগণের রাজনীতি।ঠাকুরগাঁও-৩ যদি এই বার্তাকে ভোট দেয়, তাহলে ঢাকাও শুনবে। সংসদও শুনবে। বাংলাদেশও বদলাতে শুরু করবে।এই প্রজন্ম ত্রাণদাতা চায় না। এই প্রজন্ম চায় নির্মাতা।আপনি কি পুরোনো চক্রের পক্ষে থাকবেন, না নতুন বাংলাদেশের পক্ষে?ভোটটা শুধু কাগজে দেবেন না। ভোটটা দেবেন ইতিহাসের দিকে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031