আলমডাঙ্গায় পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে উত্তেজনা, স্বামীর ঘরে ফিরতে নারাজ গৃহবধূ
Spread the love

আলমডাঙ্গার বেলগাছি ইউনিয়নে স্থানীয়দের হাতে নারী ও যুবক আটক, অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার অভিযোগ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের বাগানপাড়া ক্যানেলের ধারে এক গৃহবধূ ও এক যুবককে হাতেনাতে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দেরল্ক অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্কের কি জের ধরে ওই নারী স্বামীর ঘরে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। ঘটনাটি ঘটে ১১ জানুয়ারি রবিবার রাতে আনুমানিক ৯টার দিকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ডাউকি ইউনিয়নের পুয়ামারি গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে সুমন (২২) গোপনে বৃষ্টি খাতুন (২১)-এর বাবার বাড়িতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা দুজনকে একসাথে আটক করে।
আটক হওয়া বৃষ্টি খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার ডাউকি ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের বৈধ স্ত্রী। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ৫ বছর বয়সী পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী আব্দুল লতিফের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে তার স্ত্রী বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বিষয়টি জানতে চাইলে বৃষ্টির খাতুন বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেননি।
স্বামী আব্দুল লতিফের বক্তব্য আব্দুল লতিফ বলেন, আমি প্রায় ৭ বছর সংসার করেছি। আমাদের একটি সন্তান আছে। হঠাৎ এক বছর ধরে সে বিভিন্ন মানুষের সাথে ফোনে কথা বলতে থাকে। আমি বাধা দিলে বাবার বাড়িতে চলে যায়। সমাজের মুরুব্বিদের পাঠিয়েছি, কোর্টে মামলা করেছি—তবুও সে ফিরতে চায় না। এখন শুনি সে অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। আমি একজন স্বামী হিসেবে আজ সম্পূর্ণ নিরুপায়।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন যে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সুমন নামের ওই যুবকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করতেন, যার কারণে তিনি আর সংসারে ফিরতে রাজি নন।
স্থানীয়দের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, বৃষ্টি খাতুনের বিয়ে হলেও তিনি গত এক বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে থাকছেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে সুমনের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, আটকের পর সোমবার সকালে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বৃষ্টির পিতা আব্দুল মালেক ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

অভিযুক্ত যুবক সুমন (২২) পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। তিনি ঢাকায় কাজ করেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় এসে বৃষ্টির খাতুনের সঙ্গে দেখা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিকবার তাদের একসাথে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে।
বৃষ্টি খাতুনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তিনি সুমনের সাথে সংসার করতে চান। তবে সুমন সংসারে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর্থিক সমঝোতার পথ বেছে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আব্দুল লতিফের পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ধরনের আচরণ নিয়ে আমরা আর সংসার করতে পারব না। সমাজে আমাদের মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনি সমাধানের দাবি তুলছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক সংকট নিরসনে আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31