গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে ফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ, মারধর,ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নগদ অর্থসহ মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নাইম হাসান রানা (২৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে ডেকে শ্রীপুর মধ্য বাজারে আসতে বলেন। সেখানে গেলে কৌশলে তাকে কর্ণপুর ঘন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায় কর্নপুর গ্রামের বাবুলের ছেলে শাকিল। সেখানে ৮ থেকে ১০ জন সংঘবদ্ধ লোকজন তাকে আটকে রেখে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ বেধড়ক মারধর করে। লাঠি ও বিভিন্ন ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে অপহরণ করে সারারাত বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘুরে এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চাপ সৃষ্টি করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল (মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা), সঙ্গে থাকা নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত জ্যাকেট ছিনিয়ে আগুনে জ্বালিয়ে দেয় তারা।মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ও ভয় দেখিয়ে সাদা স্টাম্পে সাক্ষর নেওয়া হয়। পরদিন ৮ জানুয়ারি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আবারও তাকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতে আঘাত করলে রক্তাক্ত জখম হয়। ভুক্তভোগী নাইম হাসান রানা আরও জানান, অভিযুক্তরা তার পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের পাচ লাখ টাকা পরিবার দিবে বলে মোবাইলে আশ্বস্ত করেন, পরে অভিযুক্তরা তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার সময়, কর্নপুর মোড়ে মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের লোকজনের ভিড়ে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন ।তিনি ঘটনার বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










