চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকা থেকে এক গরু ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসাঃ লিমা বেগম সদর মডেল থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত মুনসুর রহমানের ছেলে মো: আলম (৪০), আব্দুল লতিফের ছেলে মো: হাসেম আলী (৪০), মৃত রমজান আলীর ছেলে জোহাক আলী, মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী (৫২), মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০), মৃত মোতর্জা আলীর ছেলে নাজমুল গুদা (৫৬), মৃত ভোগু উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন (৪৫) ও জিল্লুর রহমানের ছেলে আতাবুর রহমান ওরফে সেন্টু। এছাড়া নুরুল ইসলাম সদর উপজেলা তাঁতীলীগের সভাপতি ও ওমর আলী চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন এবং বাকিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও ওমর আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বিজ্ঞাপন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম গোলকাজুল (কাজল) (৩৫)। তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী এবং তার স্ত্রীর নাম লিমা বেগম। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চরবাগডাঙ্গা বাজারে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ১নং অভিযুক্ত মোঃ আলম এবং ৯নং অভিযুক্ত মোঃ নাজমুল ওরফে নাজমুল কানার সাথে কাজলের কথা কাটাকাটি হয়। পরের দিন, ২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯:৫০ টার দিকে ২নং অভিযুক্ত মোঃ হাসেম আলী মোটরসাইকেল নিয়ে কাজলের বাড়িতে আসেন এবং তাকে জানান যে, জোহর আলী, নুরুল ইসলাম, ওমর আলী, নাজমুল হুদা, নেজাম ও সেন্টু মো: আলমের বাড়িতে বসে আছে এবং তারা আগের দিনের বিষয়টি মীমাংসা করে দিবেন। সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী কাজল অভিযুক্ত হাসেম আলীর সাথে মোটরসাইকেলে রওনা দেন। এর আধা ঘণ্টা পর থেকে ভুক্তভোগী কাজলের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। কাজল বাড়ি ফিরে না আসায় তার স্ত্রী লিমা বেগম স্বজনদের নিয়ে পরদিন সকালে আলম এর বাড়িতে যান। সেখানে আলম জানান যে, মীমাংসার পর সবাই রাতে খাওয়া-দাওয়া করে চলে গেছেন। এরপরে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে লিমা বেগম নিশ্চিত হন যে, আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে তার স্বামীকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে আটক করে রেখেছে। তাই এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর ছোটভাই সৈকত বলেন, আমার ভাই টিপু চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ন একজন লোক ছিল। তাই তাকে পরিকল্পনার করে সরানোর উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সেদিন রাতে আলমের বাড়িতে চারটা হোন্ডা আর ৭ থেকে ৮ জন লোক ছিল। তাদের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আমারা এর সঠিক বিচার চাই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আলম বলেন, চরবাগডাঙ্গায় গরু ব্যাবসায়ী নিখোঁজের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনী প্রক্রিয়া চলমান আছে।










