চুয়াডাঙ্গা জেলায় কয়েকদিন ধরেই শীতের তীব্রতা বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের অসহায় ও দরিদ্র মানুষ। শীতের এই নির্মম বাস্তবতায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আলমডাঙ্গা থানাপাড়াভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ঐশিকা সংস্থা। মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে থানাপাড়া অবস্থিত ঐশিকা সংস্থার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ শতাধিক শীতার্ত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার। তিনি বলেন, “এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, গার্মেন্টস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ, ঐশিকা সংস্থার নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন, মোঃ মোবারক হোসেন, সার্জেন আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ঐশিকা সংস্থার সহ-সভাপতি আবু সাঈদ মিয়া। এ সময় ঐশিকা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংস্থার স্বত্বাধিকারী আমেরিকা প্রবাসী মানবিক মানুষ আব্দুল মান্নান রতন জমিদার এর একমাত্র উদ্দেশ্য—
“গরীব ও অসহায় মানুষ যেন ভালো থাকে, নিরাপদে থাকে।”
প্রবাসে থেকেও তিনি দেশের মাটির মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাননি। দীর্ঘদিন ধরেই ঐশিকা সংস্থার মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সহায়তা ও নানা সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন তিনি। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, “প্রতি বছরের মতো এবারও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শীতকালজুড়ে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলায় শীতকালে যেমন শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়, তেমনি গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমেও মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় দরিদ্র মানুষের পাশে ঐশিকা সংস্থার মতো মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটাতে ঐশিকা সংস্থার এই উদ্যোগ আলমডাঙ্গায় মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।










