ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার ৩ জানুয়ারী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গা-১ (আসন ৭৯) এবং সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা-২ (আসন ৮০) আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে দুই আসনে জমা পড়া মোট ১১টি মনোনয়নপত্রই নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব এবং জেলা সহ-সভাপতি জহুরুল ইসলাম, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা ফারুক এহসান।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বিএনপির জেলা সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি হাসানুজ্জামান সজিব, বাংলাদেশ কংগ্রেসের নুর হাকিম এবং এবি পার্টির জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম তারিক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, চার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একজনকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার না হলে উভয় মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন এবং সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অনুকূল রয়েছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ মনে করেন, সব মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় নির্বাচন ঘিরে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না। জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে—এমন একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন তারা।মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।










