মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল
ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে মায়ের সামনে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আলাউদ্দিন হাওলাদারের বাড়ির দরজায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সিফাত হাওলাদার রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে এবং রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন।
নিহতের মা ইয়ানুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলে সিফাত হাওলাদার তারেক রহমানের সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। আমি তাকে বিদায় দিতে দরজা পর্যন্ত যাই। হঠাৎ রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল মেম্বারের ছেলে হাসিব এবং মোক্তার হাওলাদারের ছেলে রনির নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল বাগান থেকে বের হয়ে এসে আমার ছেলের মুখ চেপে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।” তিনি আরও বলেন, “আমি হামলাকারীদের পা ধরেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ও তারা আমার ছেলের পা ভেঙে দিয়েছিল। আজ আমার একমাত্র সন্তানকে হত্যা করে আমার বুক শূন্য করে দিল।”
নিহতের বাবা আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, “আমি বিএনপি করি, আমার ভাই আওয়ামী লীগ করে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। আজ সেই বিরোধের জেরেই আমার ভাতিজারাই আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।” এলাকাবাসী জানান, হেলাল মেম্বার ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পতনের পরও তারা এলাকায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামান্য জমিজমা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই ছাত্রদল নেতা সিফাত হাওলাদারকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
তারা আরও বলেন, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা হাসপাতালে গিয়েছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে










