টানা দুইদিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত আলমডাঙ্গার জনজীবন
Spread the love

প্রায় দেড় মাস আগে শীতের আগমন ঘটলেও এতদিন আলমডাঙ্গা উপজেলাবাসী তীব্র শীতের তেমন অনুভূতি পাননি।
তবে গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে আবহাওয়ার চিত্র। টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশার আস্তরণে ঢেকে যাওয়ায় তীব্র শীত ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আলমডাঙ্গার স্বাভাবিক জনজীবন।
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক স্থানে দৃষ্টিসীমা কমে আসে। ঘন কুয়াশার কারণে
অনেকেই দেখা গেছে দিনের বেলায় যানবাহনের বাতি জ্বালিয়ে পথ চলতে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ। শীতের তীব্রতার কারণে অনেকেই কাজে যেতে না পেরে কর্মহীন দিন কাটিয়েছেন। উপজেলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম মুন্সিগঞ্জ থেকে দিলীপ নামের একজন দিনমজুর আলমডাঙ্গা শহরে কাজের সন্ধানে আসলেও কাজ জোটেনি বলে, আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেকের সাথে। আবার পেটের তাগিদে যারা কাজে বের হয়েছেন, তাদের অনেককেই দেরিতে কাজে যোগ দিতে হওয়ায় অর্ধেক মজুরিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যমামা মাঝে মাঝে উঁকি দিলেও রোদের তেজ ছিল অত্যন্ত কম। ফলে শীতের তীব্রতা খুব একটা কমেনি। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডের জন্য পরিচিত চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি শীত মৌসুমে গত দু’দিন ধরে আলমডাঙ্গাবাসী তীব্র শীত অনুভব করছে।
এদিকে শীতের প্রভাবে ঠান্ডাজনিত রোগবালাইয়ের প্রকোপও বেড়েছে। সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা । হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানগুলোতেও বাড়ছে রোগীর চাপ।
তবে শীতের এই আবহে কিছুটা ব্যস্ততা দেখা গেছে চা স্টল, ভাপা পিঠা ও সিদ্ধ ডিম বিক্রেতাদের দোকানগুলোতে। শীত নিবারণের আশায় মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে এসব স্থানে। পাশাপাশি ফুটপাতের মৌসুমী কাপড় বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শীতের প্রকোপ এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যবসা আরও ভালো হবে বলে তারা আশাবাদী।
প্রতি বছরের মতো এবারও হঠাৎ করেই চিরচেনা রূপে শীতের তীব্রতা অনুভব করলো আলমডাঙ্গাবাসী। আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31