জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত হলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আপসহীন বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন সমাধি প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হাদির দাফনের জন্য এই স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা
শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন:
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
- সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ।
- বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ২টায় মরদেহ দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে আসা হয়।
এক নজরে শেষ যাত্রার ঘটনাপ্রবাহ
- ১২ ডিসেম্বর: রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করা হয়।
- ১৮ ডিসেম্বর: উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ১৯ ডিসেম্বর: সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
- ২০ ডিসেম্বর: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত ও গোসল শেষে মরদেহ জানাজার জন্য নেওয়া হয় এবং বিকেলে দাফন সম্পন্ন হয়।
বিদ্রোহী কবির পাশেই এই তরুণ বিপ্লবীর ঠাঁই হওয়াকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি এক অনন্য সম্মান হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।










