ভিডব্লিউবি স্বজনপ্রীতিতে আমবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুল সাময়িক বরখাস্ত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির উপকারভোগী তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুদ্দিন মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। ১০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার উপ-সচিব মো. সামিউল মাসুদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে (নং-৪৬.০০.৫০০০.০১৭.২৭.০০২.২১-৮৭৮) জনস্বার্থে চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে সাইফুদ্দিন মুকুল নিজের স্ত্রী এবং ইউপি সদস্যদের স্ত্রী-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন—যা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) (খ) ও (ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটিত করায় কেন তাকে পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তা জানাতে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত সংবাদ দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় গত ৩১ আগষ্ট ও ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুল ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তার জবাব দাখিল করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ১৯ নভেম্বর চেয়ারম্যানকে দেয়া পত্রের অনুলিপি আমাদের দপ্তরে পৌঁছে। ২৭ নভেম্বর চেয়ারম্যানের জবাব পাওয়া গেছে এবং তা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে। এদিকে চেয়ারম্যানের স্থলে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯৭ জন উপকারভোগীর তালিকায় চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুলের স্ত্রী মোছাঃ আঞ্জুমান আরা স্বপ্না ৬০ নম্বরে, ১নং ওয়ার্ড মেম্বর সোহেল রানা লিটনের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম ৮৩ নম্বরে, ৭নং ওয়ার্ড মেম্বর মিনাজুল ইসলামের স্ত্রী ময়না খাতুন ১৯ নম্বরে এবং ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর দাউদ আলীর স্ত্রী জরিনা খাতুন ৩৬ নম্বরে স্থান পেয়েছেন। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোশাররফ হোসেনের স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন বিত্তশালী নারীকে দুঃস্থ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তালিকায় নাম তোলার অজুহাতে ৮৭ জন নারীর কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের ভিডব্লিউবি কর্মসূচিতে অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন- চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যানের স্ত্রীসহ ১১ জন স্বচ্ছল নারীর নাম অসৎ উপায়ে তালিকাভুক্তির প্রমাণিদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। ইউএনও নাজমুল ইসলাম বলেন- বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুলের স্থলে মিরপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসক। আজ (সোমবার) দুপুরে এই পত্রটি হাতে পেয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) হতে প্রশাসক আমবাড়িয়া ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে-সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইফুদ্দিন মুকুল ৩০ নভেম্বরও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক কাজ করেছেন। যা সম্পূর্ন আইনপরিপন্থী। আরেকটি অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন- যেহেতু প্রশাসক নিয়োগ হয়েছে, কালকের (মঙ্গলবার) পর থেকে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আর কোন দাপ্তরিক কর্মকান্ড করতে পারবেন না। যদি করেন তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত মামলা হবে।

সর্বশেষ খবর