হরিণাকুণ্ডুতে বিনা চাষে রসুন চাষের সাড়া

হরিণাকুণ্ডুতে বিকল্প পদ্ধতিতে রসুন চাষ

এম. টুকু মাহমুদ, হরিণাকুণ্ডু শহরে প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে সবেমাত্র আমন ধান কাটা শুরু আবার কোন জায়গায় শেষ হচ্ছে। এসব জমিতেই এখন চলছে রসুন রোপণের তোড়জোড়। মূলত ধান কাটার পর জমির খড় সরিয়ে সেই জমিতেই আবাদ করা হবে বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুনের।
উপজেলার শিংগা গ্ৰামে এই পদ্ধতিতে রসুন চাষে উদ্যোগ নিয়েছেন আক্তার হোসেন। তার এই নতুন রসুন চাষ পদ্ধতি দেখে এই আবাদ যেন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।জমিতে বিনা চাষে রসুনের বিজ রোপণের ব্যপারে কৃষক আক্তার হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,আমি ধান গম ভুট্টা সহ সব ধরনের চাষ করে থাকি কিছুদিন আগে মোবাইলে এইভাবে রসুন চাষ হচ্ছে দেখেছি তাই তাদেরকে এইভাবে রসুন চাষ করতে দেখে আমিও উদ্যোগ নিয়েছে। তাছাড়া এইভাবে যদি চাষে ভালো ফলন পায় তাহলে অনেক লাভবান হবো মনে করছি।
কম খরচ ও আগাম উঠায় কৃষকদের সবাই এখন ঝুঁকছেন এই পদ্ধতির চাষে। তবে দিন দিন সার কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিপাকে কৃষক। তাই সরকারিভাবে সহযোগিতার দাবি তাদের।
আক্তার হোসেনের এই পদ্ধতিতে রসুন চাষ করতে দেখে তার ও রোপন কৃত জমির পাশে ভিড় জমায় অন্যান্য কৃষক ভিড় জমানো কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, এক সময় এই অঞ্চলে চাষ পদ্ধতিতে রসুন আবাদ করা হতো। এতে গরুর লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষাবাদ করায় তাদের শ্রম ও অর্থের বেশি প্রয়োজন হতো। তাছাড়া চাষ করা পদ্ধতিতে কীটনাশক ও সারের ব্যবহার বেশি দরকার হতো।
তবে এখন দেখছি বিনা চাষ পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবাদ হচ্ছে রসুন। মূলত আমনের জমিতে বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুন বেশি আবাদ হয়ে থাকে। বর্ষার পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ার পর আমন ধান কাটা হয়। সেই ভেজা জমিতে ধানের খড় সরিয়ে রসুন গেঁথে দেওয়া হয়। অক্টোবর মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হয়ে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়টি বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুন আবাদের উপযুক্ত সময় ধরা হয়। রোপণ করা রসুনের সুরক্ষার জন্য জমিতে পড়ে থাকা খড় রসুনের উপরে মালঞ্চিং পদ্ধতি অবলম্বন করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে জমির মাটির উর্বরতা ধরে রাখা সম্ভব হয় এবং ফসলে কীটপতঙ্গের আক্রমণও কম হয়। তাছাড়া বিনা চাষ পদ্ধতিতে যেহেতু মৌসুমের শুরুতে রসুন আবাদ করা হয় সেক্ষেত্রে রসুন খুব তাড়াতাড়ি উত্তোলন করা যায়। এতে বাজারে বেশ ভালো দামেই বিক্রি করা যাবে।
উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা মিলছে এই পদ্ধতিতে রসুন চাষ। সেখানে একজন কৃষক বলেন, ‘বিনা চাষ পদ্ধতি রসুন আবাদ আমাদের কৃষকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। এতে ফসল দ্রুত ঘরে তোলা যায়। আর দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। তবে এখন প্রধান সমস্যা হচ্ছে দিন দিন সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, যাতে আমাদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়।’
আরেকজন কৃষক বলেন, ‘বিনা চাষ পদ্ধতি আমাদের জন্য ভালো। তবে বৃষ্টি আসলে নিচু জমিতে কিছুটা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে রসুন একবার গজিয়ে গেলে তেমন সমস্যা হয় না। তাছাড়া ধানের খড় আর কচুরিপানা দিয়ে ফসল ঢেকে রাখার এই পদ্ধতিতে ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর জানান,বিনা চাষ পদ্ধতিতে রসুন আবাদ কৃষকদের জন্য খুব লাভজনক। এই পদ্ধতিতে একদিকে খরচ কম, অন্যদিকে মৌসুমের শুরুতে ফসল ওঠায় বাজারে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়। তাছাড়া খড় দিয়ে মালচিং পদ্ধতি অবলম্বন করায় ফসলের তেমন সমস্যা হয় না। কৃষক তার নিজ উদ্দ্যোগেই চাষ করছেন,তবে এব্যাপারে অবশ্যই আমাদের কার্যালয় থেকে তাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান ঐ কর্মকর্তা।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031