ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের দাবি — আলমডাঙ্গায় শিক্ষার পরিবেশে নেমেছে নৈরাজ্য

আল-আমিন হোসেনঃ বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারেন না। এমনকি অবসর গ্রহণের তিন বছর পরও তিনি নির্বাচন করতে পারেন না। এমন নিয়ম থাকলেও কিন্তু আলমডাঙ্গায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা অহর অহর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পূর্বেও রাজনৈতিক ব্যানারে ঘুরে বেরিয়েছে বর্তমানে এখনো বেড়াচ্ছে । কিছু কিছু জায়গায় বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত কোনো চাকরি আচরণবিধি না থাকায় এ সুযোগ নিচ্ছেন তারা।এমনকি পূর্বে দেখা গিয়েছে দুর্নীতির নৌকায় ভর করে অনেক শিক্ষকই প্রশাসনের সঙ্গে একটা সম্পর্ক দাঁড় করিয়েছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত দিনে আলমডাঙ্গা সরকারী কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল গোলাম সরোয়ার মিঠু, আলমডাঙ্গা সরকারী পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম খান, নিগার সিদ্দিক কলেজের প্রিন্সিপাল আবু নাসির,,সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টারকে লাঞ্ছিত  হওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে রাজনীতি। এক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির, সাধারণ সম্পাদক, নাসির উদ্দীন (এটম) বলেন ২০০৮ সালের পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষক রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ভাবে সুবিধা ভোগ করার জন্য তারা রাজনীতিতে আসক্ত হয়েছিল। বর্তামানেও সে ধারা অব্যাহত আছে।  আমরা সংগঠনের দিক থেকে বারবার বলে যাচ্ছি যে চাকুরী করলে কেউ যেন সক্রিয় রাজনীতির সাথে জড়িত না হয়। কিন্তু তারা সমস্ত নিয়মকানুন অপেক্ষা করে রাজনৈতিক লেবাস লাগিয়ে বিভিন্ন মিছিলে তারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক  শিক্ষক বলেন, রাজনীতি না করলে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয় থাকে, সাথে নিয়োগ, পদোন্নতি ও সুযোগ-সুবিধা লাভের আশায় অনেক শিক্ষক রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন। রাজনীতি না করলে এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয় । তাই কেউ কেউ আবার শিক্ষকতার চেয়ে বেশি সময় দেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী আচরণবিধির খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা আছে — “কোনো শিক্ষক রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেবেন না এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে জড়াবেন না।” কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী আচরণ বিধিমালায় খসড়া প্রস্তাবে সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা শিরোনামে ১০টি বিধি রয়েছে। এর একটিতে বলা হয়েছে, ‘ শিক্ষক কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন না। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে নিজেকে জড়িত করবেন না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এছাড়াও প্রতিটি জায়গায় এখন ছোট বড় শিক্ষক সংগঠন গড়ে উঠেছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে যেখানে কিছু কিছু শিক্ষকরা দলীয় আধিপত্য বিস্তার করছে, তাহলে সংগঠন করে লাভ কি হলো।মাঝে মাঝে অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপারে তাদের প্রভাব খাটিয়ে মানগত উৎকর্ষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে চলেছে।  মাঝে মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটু কিছু হলেই প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য শিক্ষক । এসব লাঞ্ছিত হওয়ার পিছনে জড়িয়ে আছে শিক্ষকদের পিঠে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছাপ। শিক্ষকেরা সমাজে জ্ঞানের আলো ছড়ায়। তাদের শিক্ষার আলো দিয়ে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করেন। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আবার এটি স্পষ্ট যে শিক্ষকদের সুরক্ষা এবং সম্মান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।কারণ, তারা আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। সরকারের উচিত শিক্ষকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, তা আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

সর্বশেষ খবর