
চুয়াডাঙ্গায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঠচক্র সদস্যদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর ২০২৫) সন্ধ্যা সাতটার সময় ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এই চা চক্র ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন—
“ইসলামী ছাত্রশিবির এখন বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠনের পরিণত হয়েছে। এটা ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের অভ্যুদয় থেকেই শুরু হয়েছে, বিষয়টা এমন নয়। ১৯৭৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই আমরা একটি নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের ছাত্রদের মাঝে ইসলামের আদর্শ পৌঁছে দেওয়া, তাদের মধ্যে আদর্শিক চেতনা সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তার ধারাবাহিকতায় আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এই পথে কাজ করতে গিয়ে আমাদের ২৩৪ জন ভাই শাহাদাত বরণ করেছেন, শত শত ভাই গুম হয়েছেন। এই অঞ্চলেরই শহীদ সোহানের চোখ উপড়ে খুন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ অঞ্চলকে গুম ও খুনের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত আমাদের সাতজন ভাই গুম আছেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরেছে। আমাদের অপরাধ ছিল একটাই— আমরা এই সমাজের ছাত্রদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছু আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবে বা তাদের প্রেসক্রিপশনে কিছু রাজনৈতিক দল এই দেশের দেশপ্রেমিক তরুণদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, হত্যা করেছে।
আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া, এত জুলুম-নির্যাতনের পরও আমরা আজও ছাত্রদের জন্য কাজ করতে পারছি, তাদের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে— ইসলামী ছাত্রশিবিরই ছাত্রসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম সংগঠন। আমরা ইনশাআল্লাহ ছাত্রদের প্রত্যাশা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
আমরা এত বড় বিজয় অর্জন করার পরও অন্যদের মতো আনন্দ মিছিল করিনি। আমরা আল্লাহর কাছে সিজদার মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করেছি। আমাদের ভাইয়েরা চোখের পানি ফেলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছে— এমন নজির বাংলাদেশে অন্য কোথাও নেই। আমরা কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দিয়েছি, এই বিজয় তখনই পূর্ণতা পাবে যখন আমরা ছাত্রদের প্রতি আমাদের দেয়া অঙ্গীকার (ইস্তেহার) পূরণ করতে পারব। ইতিমধ্যে আমরা ইস্তেহারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি যা দৃশ্যমান হয়েছে। ছাত্রদের কল্যাণে অনেক পরিবর্তন আমরা আনতে সক্ষম হয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।
এক সময় ছাত্র রাজনীতি মানেই ছিল চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সহিংসতা ও গোলামী তন্ত্র কায়েম করা। কিন্তু আজ বাংলাদেশের ছাত্ররা সেই রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে— বলেই ৫ আগস্টের পরিবর্তন ঘটেছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের রাজনীতি ফিরে আসবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা চাই ছাত্র রাজনীতি হোক সেবামূলক, শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমুখী। উন্নত বিশ্বের মতো ছাত্র রাজনীতি হোক দেশের ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত।
আমরা চাই দেশের ছাত্র রাজনীতির এই ধারা পরিবর্তিত হয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হোক— যা সৎ নেতৃত্ব তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে যদি কেউ আবার ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা করে, এই প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, তাদের স্মরণ রাখতে হবে— ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করতে হবে, জুলাই শহীদদের স্মরণে থাকতে হবে। যারাই কল্যাণকর কাজে যুক্ত হবে, ছাত্রশিবির তাদের পাশে থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণভোটের মাধ্যমে তা করা শ্রেয় হবে। আমরা দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চাই, যা ইতোমধ্যেই ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব সরাসরি মিশে যাক। যদিও বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটির প্রভাব অন্যটির ওপর পড়ে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মোঃ সাগর আহমেদ এবং পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি হাফেজ আমিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক এবং যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক গোলাম জাকারিয়া।
কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা।
আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির শান্ত, মোঃ আরিফুল ইসলাম, জেলা অফিস সম্পাদক হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মোঃ বায়েজিদ বোস্তামী,পৌর সভাপতি মোঃ রাব্বি হাসান, সরকারি কলেজ সভাপতি মোঃ পারভেজ আলমসহ বিভিন্ন থানার সভাপতি ও পাঠচক্র সদস্যবৃন্দ।










