আলমডাঙ্গায় ভুয়া এনজিওর নামে প্রতারণা: লোনের প্রলোভনে তিনজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিলো চক্র

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ‘যমুনা এনজিও’ নামে একটি ভুয়া সংস্থা গড়ে তুলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনজিওর নামে লোন দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্র মাত্র একদিনের ব্যবধানে তিনজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।

জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার আনন্দধাম হারেজ ডাক্তারের বাগানের সামনে মো. মুসার বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতারক চক্রটি ‘যমুনা এনজিও’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে অফিস সাজায়। টেবিল-চেয়ার ভাড়ায় এনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা এনজিওর পরিচয়ে মাঠে নামেন এবং বিভিন্ন গ্রামের লোকজনকে লোন দেয়ার প্রলোভন দেন।

প্রতারকরা জানায়, বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের নামে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন দেয়া হবে, যার জন্য জামানত হিসেবে দিতে হবে মাত্র ৩০ হাজার টাকা। এতে প্রলুব্ধ হয়ে জামজামী উত্তরপাড়া গ্রামের রাশিদা খাতুন (স্বামী লোকমান), শাহনাজ খাতুন (স্বামী মামুন) ও বেলগাছি ইউনিয়নের শাহাবুদ্দিন (পিতা মৃত জোয়াদ আলী) ওই চক্রকে মোট ৯০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরদিন অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর রবিবার দুপুরে লোন সংক্রান্ত কাগজপত্র ও টাকা নিতে অফিসে গেলে দেখা যায় সাইনবোর্ডসহ অফিসে তালা ঝুলছে। এরপর থেকে তাদের দেওয়া মোবাইল নম্বর (০১৯৬৭-৫১১০২৮, ০১৩৩০-৪৪৪৭৯২) বন্ধ পাওয়া যায়।

অফিসের মালিক মুসার স্ত্রী জানান, “দুইজন লোক এসে বাসা ভাড়া নিতে চায়। তারা বলে, সাময়িকভাবে এনজিওর কাজের জন্য এক রুম দরকার, পরে অফিসার এলে পুরো ভাড়ার টাকা দেবে। এরপর তারা টেবিল-চেয়ার এনে বসে, কিন্তু মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। পরদিন জানতে পারি, তারা ভুয়া এনজিও খুলে প্রতারণা করেছে।”

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রুকমান আলী আলমডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, “২৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি আমাদের গ্রামে এসে এনজিওর পরিচয়ে টাকা নেয় এবং ২৬ অক্টোবর অফিসে লোন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু অফিসে গিয়ে দেখি তালা ঝুলছে। তারা প্রতারণা করে আমাদের কাছ থেকে মোট ৯০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন,
“আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারণার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলমডাঙ্গা অঞ্চলে এনজিও ও লোনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা না বাড়লে এ ধরনের প্রতারণা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031