ময়মনসিংহ মেডিকেলে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীকে চড়, ওটি বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আবুল কালাম আজাদ,  ; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় এক রোগীকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক ওটি বয়–এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর রোগীর মা লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ রোজিনা বেগম জানান, তার ছেলে মোঃ ফজলে রাব্বী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে অপারেশনের জন্য ওটি-তে নেওয়া হয়। প্রস্তুতির সময় ওটি বয় হাবিব নামের এক কর্মচারী রোজিনার হাতে একটি অস্পষ্ট স্লিপ দিয়ে কিছু সার্জিক্যাল সুতা আনতে বলেন।

রোজিনা বেগম বলেন,

“আমি চারটি সুতা এনে দিলে তিনি রূঢ়ভাবে বলেন, ‘আপনার ছেলে এখন কার হাতে জানেন!’ — এমন ভয় দেখিয়ে আমাকে আরও চারটি সুতা আনতে বাধ্য করেন।”

অস্ত্রোপচারের পর ফজলে রাব্বী তার মাকে জানান, ওটি’র ভেতরে এক ওটি বয় তাকে চড় মেরেছে। বিষয়টি শুনে হতবাক হয়ে যান রোজিনা বেগম।

“আমি একজন অসহায় মা। আমার সন্তানের গায়ে হাত তোলা হয়েছে — এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না,”

বলেন তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে।

রোজিনা বেগম ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের পরও কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া আসেনি বলে দাবি তার।

“আমি বহুবার পরিচালকের অফিসে গিয়েছি। কেউ কিছু বলে না, সবাই চুপ। এখন বুঝতে পারছি, গরিবের বিচার এখানে হয় না,”

বলেন তিনি ক্ষোভভরে।

সচেতন মহল এ ঘটনাকে অমানবিক ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলছেন, অপারেশন থিয়েটারের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় রোগীর ওপর এমন আচরণ অপেশাদার ও অনৈতিক।

তাদের মতে,
“এ ধরনের ঘটনা শুধু হাসপাতালের ভাবমূর্তিই নষ্ট করে না, বরং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ধ্বংস করে দেয়।”

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রথম দায়িত্ব।

“অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে যদি এমন নির্যাতন হয়, তাহলে সাধারণ রোগী কতটা নিরাপদ — সেটাই এখন প্রশ্ন,”

বলেন এক চিকিৎসা বিশ্লেষক।

শেষ পর্যন্ত রোজিনা বেগমের একটাই দাবি —
“আমি টাকা চাই না, ক্ষমা চাই না। শুধু চাই, যেন আর কোনো মা তার সন্তানের মুখে চড়ের দাগ না দেখে।”

এদিকে কর্তৃপক্ষের নীরবতায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তারা দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্ত ওটি বয় হাবিবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ খবর