নোবিপ্রবির সালাম হল: নামেই গৌরব, বাস্তবে শিক্ষার্থীদের অবহেলা

নোয়াখালী, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ – নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ইতিহাসের প্রথম আবাসিক ভবন ‘ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল’ একসময় ছিল শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও পরিচয়ের প্রতীক। ২০০৬ সালে নির্মিত এই হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রীনিবাস হিসেবে শুরু হলেও আজ তা পরিণত হয়েছে অবহেলার চিহ্নে।

চার শতাধিক শিক্ষার্থী এখানে থাকা সত্ত্বেও হলের চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা, ভাঙা বাথরুম, খেলার মাঠের অভাব এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম বলেন, “হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম হলেও সুযোগ-সুবিধায় আমরা অনেক পিছিয়ে। খেলার মাঠ নেই, লাইব্রেরি নেই, রিডিং রুমে বইও নেই।”

ওশেনোগ্রাফি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জিহাদুল ইসলাম রাফি জানান, “দীর্ঘ ১৯ বছরেও সালাম হলে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। চারপাশে জমে থাকা ময়লা ও পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।”

ইএসডিএম বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, “প্রশাসন পরিবর্তন হলেও আমাদের সমস্যার সমাধান হয় না। ইন্ডোর গেম রুমে যন্ত্রপাতি নেই, এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ঘাটতি রয়েছে।”

এই অভিযোগের বিষয়ে প্রভোস্ট মো. ফরিদ দেওয়ান জানিয়েছেন, “অভিযোগগুলো সত্য। দ্রুতই রুমের সংকুলান, ইন্ডোর গেমস রুমের ব্যবস্থা, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ময়লার স্তূপ পরিষ্কার, খেলার মাঠ ও বাগান করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। বরাদ্দকৃত লাইব্রেরির টাকা হাতে পেলেই শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বই ও আসবাবপত্র রাখা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত উদ্যমী। ভিসি ও প্রোভিসি মহোদয় কয়েক দফা হল পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের সহযোগিতায় আমরা অবশ্যই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারব।”

নোবিপ্রবির ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল একসময় ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র। আজও সেই প্রাণ টিকে আছে, তবে ধুলোয় ঢাকা। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, শীঘ্রই প্রশাসনের উদ্যোগে হলটি ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব, যেন তারা আবার বলতে পারে, “আমি আব্দুস সালাম হলের ছাত্র।”

সর্বশেষ খবর