ময়মনসিংহে ডেঙ্গু আক্রান্ত যুবকের মৃত্যু, মমেক হাসপাতালে ভর্তি আরও ৭০

আবুল কালাম আজাদ : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের নাম ইমরান (২৫), তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম দাপুনিয়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। এ নিয়ে গত এক মাসে হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তিনজনের মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৭০ জন রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি ৭০ রোগীর মধ্যে পুরুষ ৪১ জন, নারী ২১ জন ও শিশু ৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ জন।

মমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সহকারী ফোকাল পার্সন ও জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. মোস্তফা ফয়সাল রাহাত জানান, প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দা। এটি নগরবাসীর জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেন তিনি। মশক নিধন কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনের উদাসীনতাকে তিনি দায়ী করেন।

বর্তমানে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৪টি বেড থাকলেও সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭০ জন রোগী। এতে শয্যা সংকটে ভুগছেন অনেকে। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জাম থাকলেও সেবা প্রদানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত বাউন্ডারী রোডের বাসিন্দা মো. জামান মিয়া বলেন, “ডেঙ্গু মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। আমার এলাকার প্রায় ৩০ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।”

একই অভিযোগ করেন নগরীর কেওয়াটখালী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, “হঠাৎ জ্বর এলে পরীক্ষা করে জানতে পারি আমার ডেঙ্গু হয়েছে।”

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন খান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের ৪ তলায় ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল বোর্ড গঠন ও সার্বক্ষণিক ফলোআপ চালু রয়েছে। তিনি পরামর্শ দেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও সর্দি-ঠান্ডায় ভুগলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হলেও তা দৃশ্যমান প্রভাব ফেলছে না বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী।

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এইচ কে দেবনাথ বলেন, “মশক নিধনে আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

মমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, “রোগীর সংখ্যা বাড়ায় আমরা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড চালু করেছি। অক্সিজেন, ওষুধ, স্টেরয়েডসহ সব লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করছি।”

সর্বশেষ খবর