৫ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের স্মারকলিপি প্রদান

‘৫ দফা দাবি মেনে নিন, অন্যথায় আবার গণ–আন্দোলনের সূচনা হবে’ — জেলা আমীর মোঃ রুহুল আমিন

‎‎নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে ৫ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকেল ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠ থেকে এক বিশাল মোটরসাইকেল র‍্যালি বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করার পর হাসান চত্বর হয়ে আবার টাউন ফুটবল মাঠে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি নমিনি মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

‎সাংবাদিকদের সামনে জেলা আমীর মোঃ রুহুল আমিন বলেন,

‎ “৫ দফা দাবি মেনে নিন, অন্যথায় আবারও গণ–আন্দোলনের সূচনা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে যে দাবি উত্থাপন করেছে সেই দাবী বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন, যে দাবি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরী, যে দাবী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরী। আমরা স্পষ্ট ভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই অতি সত্তর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। হাজার হাজার শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেব না।সাধারণ জনগণ আর স্বৈরাচার দেখতে চায় না। তারা চায় একটি সুশৃঙ্খল, শান্তিময় ও শক্তিশালী বাংলাদেশ। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিয়ার পদ্ধতির চালু করতে হবে। পিয়ার চালু হলে কোন এমপি মন্ত্রী আর বিক্রি হবে না, আর কোন দস্যুতা তৈরি হবে না , কেউ ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে পারবে না। আমরা এও বলতে চাই যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সহ নির্বাচনের আগেই ন্যায়বিচার করতে হবে। আমাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। অন্যথায় দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

‎তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা একটি জবাবদিহিমূলক সরকার, ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই দাবি জনগণের হৃদয়ের দাবি।”

‎পাঁচ দফা দাবি হলো:

‎১️⃣ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন,

‎২️⃣ সংসদের উভয় কক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চালু,

‎৩️⃣ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা,

‎৪️⃣ সকল গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা,

‎৫️⃣ জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

‎স্মারকলিপি প্রদানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন —

‎চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান,

‎জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট আসাদুজ্জামান,

‎জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি নমিনি এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল,

‎সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের,

‎জেলা সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন,

‎জেলা যুব বিভাগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু,

‎শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরক,

‎জেলা অর্থ সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন,

‎জেলা আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক মোঃ দারুস সালামসহ থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের অসংখ্য দায়িত্বশীল ও সাধারণ জনগণ।

‎স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে পুরো শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন— সরকার যদি জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে নেয়, তবে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

সর্বশেষ খবর