ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিএমজেপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী কমলা কান্ত রায়ের অভিমত
Spread the love

সাকিব আহসান : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পর দলটি অবশেষে ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল রকেট মার্কা নিয়ে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুকৃতি কুমার মন্ডল এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন দিলীপ কুমার দাস। ঠাকুরগাঁও জেলায় সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন শিক্ষক কমলা কান্ত রায়, আর জেলা সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করছেন অমল দেবনাথ। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএমজেপি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এবং শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দলটির লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে মতাদর্শভিত্তিক সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এবং সংগঠনকে জনভিত্তিক রূপ দেওয়া। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কমলা কান্ত রায় পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পীরগঞ্জ কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, প্রচলিত রাজনীতি জনগণের আস্থা হারাচ্ছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে বের হয়ে নতুনভাবে রাজনৈতিক অঙ্গন সাজাতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর মতে, জনগণের আস্থা ও ভরসা পুনঃস্থাপন করতে হলে রাজনীতিকে অবশ্যই সৎ, দূরদর্শী ও জনগণকেন্দ্রিক হতে হবে। তিনি বেকারত্বকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অঙ্গীকার করে বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন করে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দাঁড় করানো তাঁর অগ্রাধিকার হবে। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কর্মসংস্থানের বিকল্প নেই। কমলা কান্ত রায় সাক্ষাৎকারে সমাজের ভয়াবহ ব্যাধি মাদক সমস্যা দূরীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর পরিকল্পনায় আছে সামাজিক পুনর্বাসন কর্মসূচি, কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করা। একইসাথে তিনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন আর কখনো সহিংসতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে কলুষিত না হয়, সে জন্য তিনি অবিচলভাবে কাজ করে যাবেন। বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজ রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তিনি মনে করেন, মেধার মূল্যায়ন ছাড়া রাজনীতিকে সুস্থ ধারায় আনা সম্ভব নয়। তাই এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, মেধাবীদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন নেতৃত্ব তৈরির চেষ্টা করবেন। তরুণদের জন্য রাজনীতি হবে এক নতুন দিগন্ত, যেখানে সৃজনশীলতা ও যোগ্যতা অগ্রাধিকার পাবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘ক্রান্তিলগ্ন’ আখ্যা দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের মতামত আরও বিস্তৃতভাবে প্রতিফলিত হবে। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, যদি সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হয় তবে একটি কক্ষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত সাংসদ দিয়ে গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, রাজনীতি শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে প্রতিটি পদক্ষেপকে জনসেবামূলক করা উচিত। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জনসেবার যেকোনো উদ্যোগে তিনি দূরদর্শী ভূমিকা রাখবেন। শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি শিক্ষা খাতের সংকটকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাঠ্যক্রমের জটিলতা, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যে দীর্ঘদিনের সমস্যা চলছে, তা তিনি সংশোধনের অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31