মহাসপ্তমী আজ: মূল পূজার সূচনা

শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাসপ্তমী। ভোর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তরা সমবেত হচ্ছেন মা দুর্গার পূজায় অংশ নিতে। সকাল থেকেই চলছে চণ্ডীপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজার নানা আচার-অনুষ্ঠান।

ষষ্ঠী শেষে সপ্তমীর পূজা

রোববার মহাষষ্ঠীতে বেলতলায় চণ্ডীপাঠ, কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ষষ্ঠীর শেষে দেবীর আমন্ত্রণ, অধিবাস ও সন্ধ্যারতি অনুষ্ঠিত হয়। আর সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়েই মূল পূজার সূচনা হলো।

কলাবউ স্নান ও ঘট প্রতিস্থাপন

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহাসপ্তমীতে প্রতীকী কলাবউকে স্নান করিয়ে ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়। এর পর দেবীকে মহাস্নান করানোর মধ্য দিয়ে পূজার সূচনা হয়। স্নান শেষে চক্ষুদানের মাধ্যমে দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা সপ্তমীর মূল আচার হিসেবে বিবেচিত।

ষোলো উপাদানের পূজা

মহাসপ্তমীর পূজা ষোলো উপাদানে সম্পন্ন হয়। দিনভর চলে চণ্ডীপাঠ ও মন্ত্রোচ্চারণ। ভক্তরা দেবীর চরণে অর্ঘ্য নিবেদন ও পুষ্পাঞ্জলি দেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সপ্তমী তিথিতেই দেবী দুর্গা জাগ্রত হয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান।

দেবীর আগমন ও গমন

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাসপ্তমী থেকেই দেবী দুর্গার শক্তি স্বর্গলোক থেকে নেমে আসেন মর্ত্যলোকে। আর দশমীর দিনে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি ফিরে যান স্বর্গলোকে। প্রতীকীভাবে এটি দেবীর আগমন ও গমন হিসেবেই ধরা হয়।

হাতির পিঠে আগমন, শুভ লক্ষণ

এ বছর মা দুর্গা মর্ত্যলোকে এসেছেন গজ বা হাতিতে চড়ে। শাস্ত্র মতে, হাতি হলো সমৃদ্ধি, প্রাচুর্য ও শুভ লক্ষণের প্রতীক। দেবীর এভাবে আগমনকে ভালো বৃষ্টিপাত, অধিক ফসল উৎপাদন এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধর্মীয় মহলে মনে করা হচ্ছে, এ আগমন সুখ ও শান্তির প্রতীক।

ভক্তদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পূজা মণ্ডপগুলোতে সকাল থেকেই চলছে ভক্তদের ভিড়। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা আলোকসজ্জায়। ঢাকের তালে তালে ভক্তরা আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করছেন। মহাসপ্তমীর দিন হওয়ায় পূজা মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি আরও বেড়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031