
ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ (রবিবার) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইলেকশন অবজারভেশন মিশনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের টিম লিডার ও ইলেক্টোরাল পলিটিক্যাল এক্সপার্ট মি. মেটে বাক্কেন, লিগ্যাল এক্সপার্ট ম্যানুয়েল ওয়ালি এবং ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বেইবা জারিনা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার আমীর ডা. এসএম খালিদুজ্জামান এবং আমীরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান অংশ নেন। বৈঠক শেষে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের জানান, ইইউ প্রতিনিধিদল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালে দেশের ৬৪ জেলাতেই পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে এবং নির্বাচন শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে বলেন, কেবল পর্যবেক্ষণ নয়, বরং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইইউ’র টেকনিক্যাল সহায়তাও জরুরি। প্রবাসী ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, জামায়াতই প্রথম এক কোটির বেশি প্রবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রশ্নের জবাবে আমীরে জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল এজেন্ডা হিসেবে তিনটি বিষয় তুলে ধরেন—
১. শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতা, দক্ষতা, টেকনিক্যাল ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুগোপযোগী করা।
২. দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন।
৩. সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
তিনি আরও বলেন, বিগত দেড় যুগ ধরে গণতন্ত্র ও ভিন্নমতের অধিকার দমন করা হয়েছে, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তবে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হলে জামায়াত আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। বৈঠকের শেষে আমীরে জামায়াত ইইউ প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। ইইউ জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তারা আবারও বাংলাদেশ সফরে এসে ঘনিষ্ঠভাবে মতবিনিময় করবেন।










