
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য ও একসময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেরা বেগমের (৭০) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের রামদাস ধনিরাম খেয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাহেরা বেগম ওই এলাকার মৃত নুরুজ্জামানের স্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতের বড় ছেলে শাখাওয়াত হোসেন বাবলু জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তার মা। একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। বাবলুর দাবি, ভোর রাতে রান্নাঘরে গিয়ে ধারালো বটি দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন সাহেরা বেগম। ছোট ছেলে শাহিন আলম বলেন, ভোরে স্ত্রী শাশুড়িকে খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাকে পড়ে থাকতে দেখেন। শাশুড়ির সঙ্গে একই ঘরে থাকা পুত্রবধূ বিউটি বেগম জানান, সাহেরা বেগম প্রায়ই রাতে ঘুম না হলে হাঁটাহাঁটি করতেন। “আজ ভোরে বিছানায় না পেয়ে খুঁজতে গিয়ে রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পাশে রক্তমাখা বটি ছিল,” বলেন তিনি। এলাকাবাসীর মতে, সাহেরা বেগম ছিলেন সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন নারী। রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে তিনি গুনাইগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং একসময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”










