ইলিয়াছ হোসাইন বদলাচ্ছেন মানিকগঞ্জ-১-এর রাজনৈতিক সমীকরণ

মানিকগঞ্জ-১ আসনকে ঘিরে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার মিলিত এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বড় দুই দলের প্রভাবাধীন ছিল। কিন্তু মাঠে তৃণমূলের আস্থা অর্জন করে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।

ইলিয়াছ হোসাইন মানিকগঞ্জ জেলা গণ অধিকার পরিষদের সহসভাপতি, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের সৌদি আরব শাখার সমন্বয়ক ও দাম্মাম মহানগর শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে ট্রাক প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন ইলিয়াছ হোসাইন। তিনি বলেন,
“জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের অঙ্গিকার দেশ হবে জনতার।”

তিনি অবহেলিত তিনটি উপজেলায় কয়েক লক্ষ মানুষের সেবা করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত এবং দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের জন্য আজীবন কাজ করে যাবেন।

ইলিয়াছ হোসাইন দৌলতপুর উপজেলার খলসী ইউনিয়নের ভররা গ্রামের একজন সমাজসেবক। স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের পাশে থেকে তিনি সুপরিচিত। অর্থ বা সামাজিক প্রচারের জন্য নয়, নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করা তার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসাইন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা মানবিক ও উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া তিনি এলাকার ক্রীড়া, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্থনৈতিক ও সংগঠনমূলক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনাকালেও সৌদি আরব থেকে অসহায়দের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

স্থানীয়রা ইলিয়াছকে ইতিমধ্যেই নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। শফিকুল ইসলাম, কৃষক (ঘিওর): “আগে ভোট দিলেও কেউ খোঁজ নিত না। ইলিয়াছ ভাই নিয়মিত আমাদের সঙ্গে থাকেন, সমস্যার কথা শোনেন।”রুবিনা আক্তার, তরুণ উদ্যোক্তা (শিবালয়): “আমাদের মতো তরুণরা কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে। ইলিয়াছ ভাই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।”মোশারফ হোসেন, প্রবাসী পরিবার (দৌলতপুর): “বিদেশে থাকা আমাদের স্বজনদের বিষয় নিয়ে উনি সবসময় সরব। মনে হয় তাঁর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণ অধিকার পরিষদ দেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে জায়গা করে নিতে চাইছে। প্রথম ধাপে ৩৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে ইলিয়াছের উত্থান সেই নতুন প্রক্রিয়ার অংশ। বড় দুই দলের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ও দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক থাকা সত্ত্বেও, যদি ইলিয়াছ তরুণ, প্রবাসী পরিবার ও কৃষক-শ্রমিকদের আস্থা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে তিনি বড় দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারবেন।

সমীকরণ বদলাতে পারে এমন ইস্যু, তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সহায়তা,প্রবাসী পরিবারের অধিকার,সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ সহায়তা এবং কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রি, জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: গ্রামীণ সেবা সম্প্রসারণ।
ইলিয়াছ হোসাইনের বক্তব্য”আমার কাছে রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমি চাই মানিকগঞ্জ-১ আসন হোক তৃণমূল মানুষের রাজনীতির মডেল।”
তিনি আরও বলেন, মানব সেবা তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য। অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য কাজ করতে পারার আনন্দ তাঁর জন্য মূল্যবান।

ইলিয়াছ হোসাইন জনহিতকর কাজে নিবেদিত। প্রচার বিমুখ হলেও নীরবে মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031