নির্বাচনের আগে নতুন আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বন্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আর দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সময়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেকে নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও কারও আবেদন অনুমোদন পায়নি। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে (২০০৯-২০২৪) মোট ১৭ হাজার ২০০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময়ে হত্যা মামলার আসামিদের নামেও লাইসেন্স ইস্যুর অভিযোগ রয়েছে।

সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫ আগস্ট সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র থানায় জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী জমা পড়ে ১৩ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র, আর জমা হয়নি প্রায় তিন হাজার ৮৬০টি অস্ত্র। যেগুলো এখন অবৈধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ও ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক (৭,৫৫১) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। এরপর খুলনা বিভাগে ২,৩০০, রাজশাহীতে ১,৯০০, সিলেটে ১,১৫০ এবং অন্যান্য বিভাগে প্রায় পাঁচ হাজার। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম, পাঁচ শতাধিক লাইসেন্স ইস্যু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তে জমা পড়া অস্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ ফেরত দেওয়া হয়েছে, তবে নির্বাচনের আগে বাকি অস্ত্র আর ফেরত দেওয়া হবে না। এমনকি আগে ফেরত পাওয়া অস্ত্রগুলোও আবার জমা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে বৈধ অস্ত্রের মধ্যে ৭৭৮টির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা জেলায়। এছাড়া পাবনায় ১৪১টি, চট্টগ্রামে ৭৩টি, যশোরে ৬৬টি, সিলেটে ৬৩টি এবং কক্সবাজারে ৩৮টি লাইসেন্স বাতিল হয়েছে।

তবে যেসব প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্য নির্ধারিত সময়ে অস্ত্র জমা দেননি—তাদের অস্ত্র বর্তমানে অবৈধ বলে ধরা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031