
জামাল উদ্দীন: কক্সবাজারের উখিয়ায় ইয়াবার বিশাল চালানসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা করেছে র্যাব-১৫।
আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন পলাতক হেলাল উদ্দিনের মা মাহমুদা খাতুন। হেলাল উদ্দিন ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ২টি পাসপোর্ট উদ্ধার করে। এসময় দুই নারী মাহমুদা খাতুন (৫৯) ও সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী সাজেদা বেগম সাজু (১৯) কে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে মূল হোতা হেলাল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসাইন ও মহিউদ্দিন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া অফিসার) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে উখিয়া-টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিল। উদ্ধারকৃত ইয়াবা, নগদ টাকা ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আটক দুই নারী কারবারি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম, মহিউদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন শুধু স্থানীয় পর্যায়ের কারবারি নন; তারা দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে তারা হোটেল ও জমিজমা কিনেছেন।
ইয়াবা কারবারি সিন্ডিকেট
এই সিন্ডিকেটের মূল ইয়াবা সরবরাহকারী হচ্ছেন রোহিঙ্গা নাগরিক অলি আহমদ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর কুতুপালং লম্বাশিয়ায় এখলাস নামের এক ব্যক্তির মেয়েকে বিয়ে করে তিনি এখানে স্থায়ী হন। পরে স্থানীয় শীর্ষ মাদক কারবারি ইমাম হোসেনের ছেলে আবুল হাসেম ও রিয়াজুল হকের ছেলে একরামের সহযোগিতায় কুতুপালং পশ্চিমপাড়ায় জমি কিনে বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করেন। এখন সেসব ভবনই পরিণত হয়েছে ইয়াবা ব্যবসার নিরাপদ ঘাঁটিতে।
অভিযোগ রয়েছে, অলি আহমদ ও তার সহযোগীরা সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন গডাউনে মজুদ করে, এরপর ছোট ছোট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেন










