মাগুরা-১ আসনে বিএনপি নেতা সামছুল আলম ধানের শীষের প্রার্থী হতে চাইছেন।
Spread the love

তৌহিদ,মাগুরা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ ( মাগুরা সদর+ শ্রীপুর) আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর একজন নিবেদিত প্রাণ সামছুল আলম। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি মাগুরার গণমানুষের কাছে ইতিমধ্যেই পরিচিত মুখ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

সামছুল আলমের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ছাত্র রাজনীতির হাত ধরে। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মাগুরা জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের মাগুরা জেলার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব তখন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

পরবর্তীতে তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এম মজিদ- উল-হকের একান্ত সচিব হিসেবে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নীতি-নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতা আরও দৃঢ় করেন।

রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও সামছুল আলম রেখেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন গ্রীনফিল্ড স্কুল, যা এখন কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং সমাজ উন্নয়নের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে। বিদ্যালয়টি মাগুরার শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক উদ্যোগে তিনি মানুষের পাশে থেকেছেন।মনোনয়ন প্রত্যাশী সামছুল আলম নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসম্মুখে তাঁর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বেকারত্ব দূরীকরণ: তরুণ প্রজন্মের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা, কৃষিভিত্তিক শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

শিক্ষা উন্নয়ন তার ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিটি গ্রামে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সহ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা কার্য়ক্রম পরিচালনায় সহয়তা করে থাকেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় তার ভূমিকা উল্লেখ করার মতো।তিনি এলাকায় আধুনিক হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপন, গরীব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করে থাকেন।

তিনি তার এলাকা থেকে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করে যুব সমাজকে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সহ পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন, জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

এ ছাড়া গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ, সেচ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ: খোলা দরবার, অনলাইন ও ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণের সমস্যার দ্রুত সমাধান কল্পে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন।

সামছুল আলম বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, বরং মানুষের সেবার মাধ্যম। ধানের শীষের কান্ডারী হিসেবে আমি চাই মাগুরা হোক কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শান্তির মডেল জেলা। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা পেলে আমি সেই লক্ষ্য পূরণে কাজ করবো।” মাগুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে সামছুল আলমের মনোনয়ন প্রত্যাশা ও তাঁর ঘোষিত কর্মসূচি ইতিমধ্যেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সৎ নীতির কারণে তিনি মাগুরা-১ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন।স্থানীয়রা বলছেন, সামছুল আলম যদি বিএনপির মনোনয়ন পান, তবে তিনি উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সমাজসেবামূলক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে মাগুরার রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31