আলমডাঙ্গায় পালিত হলো বাঘ দিবস

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার উদ্যোগে আলমডাঙ্গায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস -২০২৫ এবারের প্রতিপাদ্য ছিলো ” বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের সমৃদ্ধি ” গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সন্মানিত সভাপতি জনাব সাঈদ এম হিরন , উপদেষ্টা জনাব সাদ্দাম খান , যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত রহমান , দপ্তর সম্পাদক আল রাব্বি সহ আরো সদস্যবৃন্দ এসময় সভাপতির বক্তব্যে উঠে আসে চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম এবং ভারতীয় অংশে খাবারের সহজলভ্যতা কে দায়ী করেন ।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের বক্তব্যে আরো বিষদ উঠে আসে। বাংলাদেশের সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, আর এখানেই বাস করে বঙ্গোপসাগরের রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris tigris)। বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris এসেছে গ্রিক ও লাতিন শব্দ থেকে, যেখানে Panthera মানে “বৃহৎ বিড়াল” এবং tigris শব্দটি পারস্য ভাষা থেকে এসেছে যার অর্থ “তীক্ষ্ণ” বা “দ্রুতগতিসম্পন্ন”। এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এদের শক্তি, চাতুর্য এবং মহিমা। বর্তমানে বিশ্বের বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। একসময় এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় এক লক্ষ বাঘ বিচরণ করত, অথচ আজ প্রকৃতিতে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েক হাজারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সুন্দরবনে প্রায় ১১৪টির মতো বাঘ আছে বলে সাম্প্রতিক সমীক্ষা ইঙ্গিত দেয়। যদিও এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, তবুও এটি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিলুপ্তির প্রধান কারণ হলো আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার, মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। সুন্দরবনের ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় এবং নদী ভাঙনের ফলে বাঘের প্রজনন ও শিকার ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। এছাড়া, অবৈধ শিকারিদের হাত থেকে বাঘকে রক্ষা করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বাঘ একটি শীর্ষ শিকারি প্রাণী। তারা হরিণ, বন্য শূকর ও অন্যান্য প্রাণী শিকার করে বনাঞ্চলের শৃঙ্খলা বজায় রাখে। বাঘ না থাকলে শিকার প্রাণীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে, যা বনাঞ্চলের উদ্ভিদ ধ্বংস করে দেবে এবং শেষ পর্যন্ত পুরো বাস্তুসংস্থান ভেঙে পড়বে। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন, বাঘ বাঁচলে বন বাঁচবে, বন বাঁচলে মানুষও বাঁচবে। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মিলে বাঘ সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্যামেরা ট্র্যাপ সমীক্ষা: বৈজ্ঞানিকভাবে বাঘের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। বাঘ সংরক্ষণ অঞ্চল ঘোষণা: যেখানে মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে বাঘ ও তার শিকারকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে। কমিউনিটি ভিত্তিক বন সংরক্ষণ কর্মসূচি: স্থানীয় জনগণকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে যাতে তারা শিকার প্রতিরোধে সহযোগিতা করে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: স্যাটেলাইট ও জিপিএস কলার ব্যবহার করে বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাঘ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই মহিমান্বিত প্রাণীটি শুধু একটি প্রজাতি নয়, বরং আমাদের জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুন্দরবনের প্রতিটি বাঘ জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষার এক অমূল্য সম্পদ। এবারের স্লোগান “বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের সমৃদ্ধি” আমাদের দায়িত্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে—প্রকৃতি ও মানুষকে একসঙ্গে টিকিয়ে রাখতে হলে বাঘ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031