
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার প্রগতিশীল চিন্তাবিদ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামাজিক নেতৃত্বে অনন্য এক নাম আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৬৫)। শিক্ষকপ্রেমী, ব্যাংকার, সাংবাদিক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক কর্মী ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয়ে সুপরিচিত এই মানুষটি একাধারে আলমডাঙ্গার উন্নয়নে বহু দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রেখে চলেছেন। ১৯৬০ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মৃত আহাম্মদ আলী মোল্লা এবং মাতা মোছাঃ জহুরা খাতুন। শৈশবেই তিনি শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তি গড়েন আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে শিক্ষা গ্রহণ করেন আলমডাঙ্গা বহুমুখী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কৃষি বিজ্ঞান শাখা থেকে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬০৯। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮২ সালে ইসলামী যুব শিবিরে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য হন । এরপরে খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়ে খুলনা বিভাগের পাঁচটি জেলার দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে তিনি বাংলাদেশ সোনালী ব্যাংকে ১৯৮১ সালে কুষ্টিয়া সদর শাখায় ক্যাশিয়ার পদে যোগদান করেন। পেশাগত জীবনে মুন্সিগঞ্জ, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাসহ পাঁচটি শাখায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার পদে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৯ সালে প্রিন্সিপাল অফিস, চুয়াডাঙ্গা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের আগেই তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি শুধু ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন না, ছিলেন একজন একনিষ্ঠ সাংবাদিকও। ১৯৭৭ সাল থেকে জাতীয় দৈনিক ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘ইস্পাত’, ‘দৈনিক জনপদ’ ও ‘সাপ্তাহিক সোনার বাংলা’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। সাংবাদিকতা পেশায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাব” এবং হন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার বৃহত্তম বণিক সংগঠন “আলমডাঙ্গা বণিক সমিতি”-এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একাধিকবার সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন। একইভাবে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও সফল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সামাজিক কর্মকাণ্ড, নিরপেক্ষ দায়িত্বপালন ও নীতিবান নেতৃত্বের কারণে তিনি আলমডাঙ্গার সুশীল সমাজের মাঝে বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাঁর সিদ্ধান্ত ও অভিমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বহু সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৪ সাল থেকে আলমডাঙ্গা পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য, আলমডাঙ্গা উন্নয়ন নাগরিক কমিটির সভাপতি, গোবিন্দপুর জামিয়া মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, এবং ২০০০ সাল থেকে “বাঁধন ৭০-৭৫ ব্যাচ”-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়াও তিনি ২০২৩ সাল থেকে আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচটি গ্রামের মণ্ডল প্রধানদের সংগঠনের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৭৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আলহাজ্ব সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে। তাঁদের চার সন্তানের সবাই শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। তার প্রথম কন্যা সন্তান মোছাঃ সাদিয়া সালসাবিল (শাম্মা), এমবিএ, নর্দান ইউনিভার্সিটি খুলনা; বর্তমানে কুষ্টিয়ার হাসিব ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষিকা। দ্বিতীয় কন্যা সন্তান মোছাঃ সাদিয়া আফরিন (রীমা), সিএসই, স্টেট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা। এরপরে প্রথম পুত্র সন্তান মোঃ তাসনিমুল হাসান (নয়ন), বি.বি.এ (অনার্স), প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা। পুত্র মোঃ মোস্তাহিদ হাসান (অনম), একজন হাফেজে কোরআন। শান্ত স্বভাব, নীতিবান জীবনযাপন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম আজ আলমডাঙ্গাবাসীর হৃদয়ে গেঁথে রয়েছেন। তিনি এই জনপদের এক আদর্শিক মুখ, যিনি কর্মের মধ্য দিয়েই রেখে গেছেন তাঁর পরিচয়। আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল ইসলাম, প্রতিবেদক এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন “সমাজ গড়তে হলে আগে নিজেকে গড়তে হয়। নীতি, ন্যায় ও মানবিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে গেলে সমাজ আপনাআপনিই সুন্দর হয়ে ওঠে। আমরা যারা শিক্ষা, ব্যাংকিং, সাংবাদিকতা বা রাজনীতির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছি, তারা প্রত্যেকে সমাজের ঋণগ্রস্ত। এই ঋণ শোধ করতে হয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সত্যের পক্ষে কথা বলে, এবং তরুণ প্রজন্মকে সৎ পথ দেখিয়ে।আমার জীবনসন্ধ্যার এ পর্যায়ে এসে উপলব্ধি করছি, টাকা-পয়সা, পদ-পদবি কিছুই স্থায়ী নয়। থেকে যায় কেবল ভালোবাসা, সেবা আর সৎকর্মের স্মৃতি। আমি চাই নতুন প্রজন্ম আলমডাঙ্গাকে ভালোবাসুক, আলমডাঙ্গার মানুষকে আপন করে নিক, আর গড়ে তুলুক এক সুশৃঙ্খল, সচেতন ও মানবিক সমাজ।”










