মাগুরার শ্রীপুরে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

তৌহিদ, মাগুরা: মাগুরা জেলার শ্রীপুরে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এক শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করেছে স্কুল পক্ষ। এতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় যে, স্কুলের অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষার উত্তরপত্রে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা ভাষা লেখার অভিযোগ তুলে স্কুল থেকে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ । বহিষ্কৃত স্কুল শিক্ষার্থী শ্রীপুর উপজেলার রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তবে এ ঘটনার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর পরিবার। তারা অভিযোগ করেন, বহিষ্কার করার আগে ওই শিক্ষার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। যা সম্পুর্ন স্কুল কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতারই অংশ।

গত ১৭ জুলাই ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে ১৮ জুলাই বহিষ্কার পত্রটি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচার করেন স্কুলটির এ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোঃ এমদাদুল কবির ওরফে জুয়েল। ফেসবুকে প্রচারের পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে সর্বমহলে। অনেকেই স্কুল কমিটির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই এটিকে অমানবিক কাজ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বহিস্কৃত শিক্ষার্থীর পরিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ তুলেছেন।

এ ঘটনায় সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে স্কুলটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকেও নানা বিভ্রান্তমূলক তথ্য দেন স্কুলটিতে কর্মরতরা। এসময় সহকারী শিক্ষকের কাছে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এবং কোনো তথ্য দিতে চাননি।

এ বিষয়ে বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক (দাদা) ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, আমার নাতি ছেলের বিরুদ্ধে আগে কখনো এরকম কোনো ধরনের অভিযোগ ছিলোনা। কি অপরাধে তাকে বহিষ্কার করা সেটি আমাদের কখনো জানানোই হয়নি। স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভূল করলে সেই ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং অবিভাবকদের কাছে বিষয়টি জানানো উচিত। এত বড় একটি ঘটনা ঘটলো আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়েই কেন হঠাৎ করে বহিষ্কার করা হলো, এটি আমার প্রশ্ন! বহিষ্কার হওয়ার পর থেকে আমার নাতি ছেলে (বড় ছেলের পুত্র) বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর কোনো খোজ পাচ্ছিনা। সে লোক লজ্জার ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, স্কুল কমিটির বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধি রাশেদ স্যারের সাথে তার জমি নিয়ে বিরোধ এবং স্কুল কমিটির বর্তমান এ্যাডহক কমিটির সভাপতি এমদাদুল কবিরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিলো। সেই ক্ষোভেই হয়তো তার নাতি ছেলেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক নওয়াব আলীর সাথে কথা বলতে গেলে তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি, পরে তার ব্যবহুত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। শিক্ষার্থী বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি, স্কুলে আসলে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় স্কুলটির এ্যাডহক কমিটির সভাপতি এমদাদুল কবির ওরফে জুয়েল জানান, পরীক্ষার খাতায় কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল বাক্য লেখার অভিযোগে বিদ্যালয়ের শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত ছাত্রকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের ঘটনাটি জানেন না বলে জানান মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি। তিনি আরো জানান, যদি কোন বিষয়ে কারো কোনো অভিযোগ থেকে থাকে সেটি তদন্ত করে দেখবেন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করার আগে তাকে অবশ্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। যদি এ সুযোগ বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী না পেয়ে থাকে তাহলে এ ব্যাপারে জড়িতেদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

সর্বশেষ খবর

Sat Sun Mon Tue Wed Thu Fri
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031